


সংবাদদাতা, বহরমপুর: বাইক চালকদের মাথায় হেলমেট বাধ্যতামূলক। নতুন সরকারের এই ঘোষণার পরেই বহরমপুরে শহরে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে। শহরজুড়ে মোড়ে, মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ হেলমেট বিহীন চালকদের আটকে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দিচ্ছেন। পুলিশি এই অভিযান ঘিরে শহরে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। এর জেরে আতঙ্কে বাইক চালকরা হেলমেট বিক্রির দোকানে ছুটছেন। বিক্রেতাদের দাবি, কেন জানি না তবে বিগত এক সপ্তাহে হেলমেটের বিক্রিবাটা বেড়েছে। বৃহস্পতিবার বহরমপুরের কান্দি বাসস্ট্যান্ড, গির্জার মোড়, ভাকুড়ি মোড়ে একযোগে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। প্রায় ৩০টি চালান কাটা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এক সপ্তাহে এই সংখ্যা দু’শো ছাড়িয়েছে।
মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার এক কর্তা জানান, পথ নিরাপত্তা বাড়াতে এই অভিযান শুরু হয়েছে। হেলমেট বিহীন কোনো বাইক চালককে রেয়াত করা হবে না। বাইক চালকদের মাথায় হেলমেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। লাগাতার এই অভিযান চলবে।
রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পরেই পুলিশ অতিসক্রিয় হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠতে শুরু করেছে। সম্প্রতি বহরমপুরে পুলিশের লাগাতার অভিযানই তার অন্যতম প্রমাণ বলে ধরা হচ্ছে। বেশ কয়েকদিন ধরেই শহরে হেলমেটবিহীন বাইক চালকদের ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, মোড়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে হেলমেট না থাকা বাইক চালকদের আটকে সংশ্লিষ্ট বাইকের নম্বর ধরে মালিকের নামে চালান কাটছে। পুলিশকে অগ্রাহ্য করে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও কেউ পার পাচ্ছেন না। মোবাইল ফোনে নম্বর প্লেটের ছবি তুলে বাইকের সঙ্গে সংযুক্ত মালিকের ফোনে পাঠানো হচ্ছে চালানের নোটিস। কয়েক মূহূর্তের মধ্যে মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে সেই সূচনা ভেসে উঠছে। হেলমেট না থাকার মামলায় অর্থদণ্ড এক হাজার টাকা। এদিন বহরমপুরের গির্জা মোড়ে হাজার টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে প্রলয় মজুমদার নামে এক যুবককে। প্রলয়বাবু বলেন, মাঠে সান্ধ্য ভ্রমণের পর ঘেমে যাওয়ায় হেলমেট মাথায় না দিয়ে গাড়িতে সেটা আটকে রেখেছিলাম। গির্জার মোড়ে আড়াল থেকে বেরিয়ে পুলিশ রাস্তা আটকায়। বিস্তারিত বলার পরও ছাড়েনি। তবে মানুষের নিরাপত্তায় পুলিশের এই অভিযান সমর্থন করি।
পুলিশের এই অভিযানে হেলমেট বিক্রেতারা বেশ লাভবান হচ্ছেন। পুলিশের আতঙ্কে বাইক চালকরা সটান হেলমাটের দোকানে ছুটছেন। বহরমপুরের হেলমেট বিক্রেতা বিকাশ হাজরা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আচমকা হেলমেট বিক্রি বেড়েছে। পুলিশি ধরপাকড়ই এর কারণ।