


সংবাদদাতা, হলদিয়া: বৃহস্পতিবার কলেজের টিচার্স কাউন্সিলের মিটিংয়ের দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ করলেন মহিষাদল রাজ কলেজের অধ্যাপকরা। এদিন দুপুর থেকে অধ্যাপকদের একাংশ ওই বিক্ষোভে শামিল হন। পড়ুয়াদের অভিযোগ, ক্লাস বন্ধ করে কলেজ শিক্ষকদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। দু’ দিন আগেই ওই মিটিং ঘিরে কলেজে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। প্রিন্সিপালের সামনে অধ্যাপকদের দু› পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হওয়ার উপক্রম হয় বলে অভিযোগ। দু› পক্ষ একে অপরকে হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ। কয়েকদিন ধরে কলেজ প্রাঙ্গণে যে অশান্তি হচ্ছে, তা নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছে। কলেজে ভর্তির সময় শিক্ষকদের নিজেদের মধ্যে এ ধরনের অশান্তি ছাত্র ভর্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন উদ্বিগ্ন প্রিন্সিপাল। এদিন বিক্ষোভরত অধ্যাপকরা দাবি করেন, ১৫ মে শুক্রবার পূর্ব নির্ধারিত টিচার্স কাউন্সিসের মিটিং করতে হবে প্রিন্সিপালকে। গত ১২ মে মঙ্গলবার ওই মিটিং গণ্ডগোলের জেরে স্থগিত হয়ে যায়। প্রিন্সিপাল সেই মিটিং ডেকেছিলেন ১৫ মে। পরে হঠাৎ সেই মিটিং বন্ধ করার নির্দেশিকা দিয়েছেন প্রিন্সিপাল। ওই ঘটনায় কলেজ শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মিটিংয়ের দাবিতে এদিন ২২ জন অধ্যাপকের সই করা চিঠি প্রিন্সিপালকে দেওয়া হয়। অধ্যাপকরা বলেন, প্রায় দেড় বছর ধরে মহিষাদল রাজ কলেজের টিচার্স কাউন্সিলের মিটিং হয়নি। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর শেষবার ওই মিটিং হয়েছিল। ওই মিটিংয়ে কলেজ শিক্ষকদের বিভিন্ন দাবিদাওয়ার পাশাপাশি কলেজের পঠনপাঠনের পরিবেশ, ব্যবস্থা ও সমস্যা নিয়ে মূলত আলোচনা হয়।
নিয়ম অনুযায়ী টিচার্স কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট কলেজের প্রিন্সিপাল। অধ্যাপকদের একাংশের অভিযোগ, প্রিন্সিপাল কখনও সময়মতো টিচার্স কাউন্সিলের মিটিং ডাকেননি। তিনি নিজের মতো কলেজ পরিচালনা করেন। শিক্ষকদের মতামত নেন না। কলেজের কমার্স বিভাগের অধ্যাপক নির্মল চক্রবর্তী বলেন, টিচার্স কাউন্সিলের মিটিংয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া পদোন্নতি, তাঁদের এরিয়ার নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। এছাড়া কলেজে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি, ভালোমানের ক্লাসরুম, পঠনপাঠনের আরও উপকরণ বাড়ানো, নিয়মিত ক্লাস এসব বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ওই মিটিংয়ে। দীর্ঘদিন মিটিং না হওয়ায় কলেজে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে আন্দোলনরত অধ্যাপকদের অভিযোগ। তাঁদের অভিযোগ, প্রিন্সিপালকে বার বার আবেদন করা সত্ত্বেও তিনি টিচার্স কাউন্সিলের মিটিং করতে চাননি। জানা গিয়েছে, ওই কলেজে অধ্যাপকদের মধ্যে দু›টি গোষ্ঠী রয়েছে। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণেই দীর্ঘদিন ওই মিটিং হয়নি। গত মঙ্গলবার টিচার্স কাউন্সিলের মিটিংয়ের সময় অধ্যাপকদের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে ব্যাপক ঝামেলা বাধে। ওইসময় মিটিং বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন প্রিন্সিপাল। ১৫ তারিখে মিটিংয়ের তারিখ নির্ধারিত হয়। শেষে নতুন সরকারের নির্দেশিকার কারণ দর্শিয়ে ওই মিটিং বন্ধের নির্দেশ দেন। অধ্যাপকদের বক্তব্য, সরকার গভর্নিং বডিকে মিটিং করতে বারণ করেছে। কিন্তু কোথাও টিচার্স কাউন্সিলের কথা উল্লেখ করেনি। এটি একটি স্ট্যাটুটরি বডি, তাই মিটিং করতে পারে। প্রিন্সিপাল গৌতমকুমার মাইতি বলেন, যাঁরা বিক্ষোভ করছেন, তাঁরা সঠিক কথা বলছেন না। একসময় দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ ছিল। ২০২৩ সালে আমি প্রিন্সিপাল হয়ে আসার পর অনেকের পদোন্নতি হয়েছে। তাঁরা এরিয়ার হিসেবে কয়েক লক্ষ টাকা পেয়েছেন। বরং ওই এরিয়ার পাইয়ে দেওয়ার নামে কলেজেই চক্র গড়ে উঠেছিল। তা আমি বন্ধ করেছি। কলেজ প্রাঙ্গণে এ ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত।