


সংবাদদাতা, কান্দি: রাজ্যে পালাবদলের পরই সক্রিয় হল পুলিশ। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির একটি মামলায় জেলবন্দি বড়ঞার প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার ঘনিষ্ঠ কৌশিক ঘোষকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যায় কৌশিকের সহযোগী মিহিরচন্দ্র সাহাকেও জালে তুলেছে বড়ঞা থানার পুলিশ। এক বছর আগে দায়ের করা প্রায় ৯৪লক্ষ টাকা প্রতারণার মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিক্ষকের চাকরি দেওয়ার নামে ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। বৃহস্পতিবার ধৃতদের কান্দি মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক দু’জনকে সাতদিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তারের পর এখনো জেলে রয়েছেন জীবনকৃষ্ণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বড়ঞার প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণর ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কৌশিক। বড়ঞা থানার ভরোয়া গ্রামে তার বাড়ি। কলকাতার প্রভাবশালীদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল। শিক্ষক দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এক পদাধিকারীর সঙ্গে তার সখ্য ছিল। এমনকী তাঁর সঙ্গে তোলা ছবি সুকৌশলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে প্রভাব খাটাত। সেই সূত্রেই চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ। কলকাতায় উপর মহলের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্রে জীবনকৃষ্ণের সঙ্গে কৌশিকের ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ২০২২ সালে প্রাক্তন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণকে গ্রেপ্তারের পর কৌশিকও দীর্ঘদিন গাঢাকা দিয়েছিল। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। তারপর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তাকে হেপাজতে নেয়। তবে বছরখানেক আগেই সে জামিনে ছাড়া পায়। তবে সে মাঝেমধ্যে বাড়ি ফিরলেও ভরোয়া গ্রামে থাকত না। বীরভূমের শান্তিনিকেতনে ভাড়াবাড়িতে থাকত।
বুধবার সন্ধ্যায় শান্তিনিকেতনের ভাড়াবাড়ি থেকেই কৌশিককে ফের গ্রেপ্তার করে বড়ঞা থানার পুলিশ। একইসঙ্গে কৌশিকের সহযোগী হিসাবে বীরভূমের সাঁইথিয়া থানার কুনুরি গ্রাম থেকে মিহিরচন্দ্র সাহাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বড়ঞা থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাদপুর গ্রামের বাসিন্দা শুভ্রজিৎ মণ্ডল ২০২৫সালের ১৬জুন কৌশিক ঘোষ ও মিহিরচন্দ্র মণ্ডলের নামে প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী ছাড়াও, দিদি- জামাইবাবু ও তাঁর তিন বন্ধু মিলে মোট ছ’জনের শিক্ষকের চাকরির জন্য ৯৩লক্ষ ৪০হাজার টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু, চাকরি হয়নি। টাকা ফেরত না পেয়ে ওই অভিযোগ করা হয়েছিল। অভিযোগকারী জানিয়েছেন, দেরিতে হলেও প্রতারকরা ধরা পড়ায় তিনি খুশি।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। তার আগে তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় জীবনকৃষ্ণ তাঁর দু’টি মোবাইল পুকুরে ছুড়ে ফেলেছিলেন বলে অভিযোগ। পরে সেগুলি উদ্ধার হয়। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে জামিন দিয়েছিল। পরে আন্দিতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছিল ইডি। সেই সময়ও মোবাইল ছুড়ে ফেলায় রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়েছিল। ফের তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই থেকে এখনো জেলবন্দি জীবনকৃষ্ণ। রাজ্যে পালাবদলের পরই নিয়োগ মামলায় সক্রিয় হল পুলিশ। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হল। এদিন আদালতে তোলার সময় কৌশিককে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দিতে চাননি।