


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: শপথ গ্রহণের দিন ৯ মে রাজ্য মন্ত্রিসভায় জায়গা পান মাথাভাঙার বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক। উত্তরবঙ্গ থেকে তিনিই আপাতত একমাত্র মন্ত্রী । মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব দেন। এবার কোচবিহার থেকে আরও একজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হল। তিনি কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ইতিহাসে এই প্রথম উত্তরবঙ্গ থেকে কোনো বিধায়ক স্পিকার মনোনীত হলেন। রথীন্দ্রবাবুর হাত ধেরে সেই ইতিহাস সৃষ্টি হল।
কোচবিহারের দেবীবাড়ি এলাকায় রথীন্দ্রবাবুর পৈতৃক বাড়ি। সেখানে থাকেন তাঁর ৮৪ বছরের বৃদ্ধা মা ছায়া বসু। রথীন্দ্রবাবুরা তিন ভাই। ছোট ভাই বিরাজ বসু কোচবিহার জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক। মেজো ভাই মানবেন্দ্র কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। বড় ছেলের এতবড় একটি জায়গায় পৌঁছনোর খবর পেয়ে আনন্দে ভেসে যান অশীতিপর বৃদ্ধা ছায়াদেবী। চোখে ফুটে ওঠে আনন্দাশ্রু। ছেলে জনসেবার কাজে নেমে এতটা উপরে পৌঁছবে, তা যে তিনি কখনও ভাবেননি।
উত্তরবঙ্গ অবহেলিত বলে বিজেপি চিরকালই অভিযোগ তুলে এসেছে। এবার তারা ক্ষমতায় এসে যেন সেই দোষ খণ্ডানোর উদ্যোগ নিয়েছে। নিশীথের পর রথীন্দ্রবাবুকে বিধানসভার স্পিকার করা, যা বিজেপির একেবারে মাস্টার স্ট্রোক বলে মনে করা হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষিত, মৃদুভাষী রথীন্দ্র বসু নির্বাচন চলাকালীন বা জয়ের পরেও কোনো প্রবল উচ্ছ্বাস দেখাননি। বিরোধীদের তীব্র আক্রমণের সামনে পড়েও যুক্তিপূর্ণ, দৃঢ় পদক্ষেপ করেছেন। এবার তিনি বিধানসভার স্পিকারের মত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হলেন। যা কোচবিহারবাসীর কাছেও গর্বের। যে রথীন্দ্রবাবুকে ঘিরে নির্বাচনের আগে বিরোধীরা ‘বহিরাগত’ স্লোগান তুলেছিলেন, কটূ মন্তব্য করতেও পিছপা হয়নি। ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলেছেন।
রথীন্দ্র বসুর মা ছায়া বসু বলেন, তিন বছর বয়সে ছেলেকে পাটাকুড়ার একটি প্রাথমিক স্কুলে ভরতি করেছিলাম। সেখান থেকে রামভোলা হাইস্কুলে যায় ছেলে। পরে কলেজ পাশ করে এবং কলকাতায় চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি পড়তে যায়। পড়াশোনার পাট শেষ হলে ডিগ্রি নিয়ে ছেলে ফেরে। শিলিগুড়িতে ফার্ম করে। সেখানেই থাকে। কিন্তু বাড়ির সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন করেনি।। প্রতি সপ্তাহে কোচবিহারে আসত। আজ ছেলে স্পিকার হয়েছে শুনে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে। আমি যে এতকিছু দেখতে পাব তা কখনও ভাবিনি।