Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

অত্যাবশ্যকীয় বাদে অন্য পণ্যের বিক্রি আশানুরূপ নয়, মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা খুচরো ব্যবসাতেও

পার্সোনাল লোন, মাইক্রোফিনান্স, ফিনটেক ঋণের ক্ষেত্রে প্রায় এক বছর ধরেই মাসিক কিস্তি না মেটানোর প্রবণতা বেড়ে চলেছে।

অত্যাবশ্যকীয় বাদে অন্য পণ্যের বিক্রি আশানুরূপ নয়, মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা খুচরো ব্যবসাতেও
  • ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: পার্সোনাল লোন, মাইক্রোফিনান্স, ফিনটেক ঋণের ক্ষেত্রে প্রায় এক বছর ধরেই মাসিক কিস্তি না মেটানোর প্রবণতা বেড়ে চলেছে। কারণ, আর্থিক সংকটের জেরে কিস্তি মেটাতে পারছেন না ঋণগ্রহীতারা। সাধারণত ক্ষুদ্র ও মাঝারি খুচরো ব্যবসায়ীরা এই লোন নিয়ে থাকেন। শুধু তা-ই নয়, ভোগ্যপণ্যের ডিস্ট্রিবিউটরদের স্টক ক্লিয়ারেন্সও আটকে থাকছে। কারণ, খুচরো বিক্রেতাদের থেকে আসছে না নতুন অর্ডার। কেন? কারণ, অনলাইনের পরিবর্তে এখনও বাজারে বা দোকানে গিয়ে পণ্য কেনার প্রবণতা বেশি। আর এটাই ভারতীয় বাণিজ্য অর্থনীতির চালিকাশক্তি। কিন্তু সেই ক্রেতার আসা কমছে। ফলে রিটেল ব্যবসায় ধাক্কা আসছে লাগাতার। খুচরো বাণিজ্যের কেনাকাটায় একমাত্র অত্যাবশ্যকীয় ছাড়া অন্য পণ্যের বিক্রি আশানুরূপ নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে মূল্যবৃদ্ধি এবং বেকারত্ব। বাণিজ্য সংগঠনগুলির রিপোর্টেই এই তথ্য উঠে আসছে। প্রতি মাসে এই সমীক্ষা করে থাকে রিটেলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি  রিজার্ভ ব্যাংকও মূল্যবৃদ্ধিকে আর্থিক বৃদ্ধি প্রতিহত হওয়ার কারণ হিসে঩বে চিহ্নিত করেছে স্পষ্টভাবে। কেন্দ্রীয় সরকার জ্বালানি ও খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। তাৎপর্যপূর্ণভাবে খুচরো বাজারে কম বিক্রির প্রবণতার মধ্যেও কিছুটা পরিস্থিতি ভালো পশ্চিম ও উত্তর ভারতে। সবথেকে পিছিয়ে পূর্ব ভারত। 

Advertisement

সাধারণ খুচরো বিক্রেতাদের আর্থিক পরিস্থিতি কী, সেটা আন্দাজ করা যাবে যদি বৃহৎ বাণিজ্য সংস্থার খুচরো ব্যবসার চিত্রটি দেখা যায়। জুলাই মাসের কর্পোরেট আর্নিংস রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, রিলায়েন্স রিটেলের নিট মুনাফা বিগত বছরের এই সময়কালের তুলনায় এক ধাক্কায় ১৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। বেসিক গ্রসারি অর্থাৎ, সোজা বাংলায় সংসারে প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্যের ব্যবসাই একমাত্র আগের অবস্থান ধরে রাখছে। কিন্তু বাকি অত্যাবশ্যক নয়, এরকম পণ্যের বিক্রি ক্রমাগত কমেছে। একই প্রবণতা দেখা গিয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানের ক্ষেত্রে। সেটা পাড়া অথবা বাজারের মুদিখানা হোক কিংবা ডিপার্টমেন্টাল স্টোর—প্রতি মাসেই রিটেল বা খুচরো বিক্রি কমছে। 
সবথেকে বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে খাদ্যপণ্য, রান্নাপ্রস্তুতের উপকরণ অর্থাৎ মুদিদ্রব্য ক্রয়ে, যার বৃদ্ধিহার ১০ শতাংশ। কেনাকাটার তালিকায় সবথেকে পিছনে গয়না, জামাকাপড় এবং ইলেকট্রনিক্স গ্যাজেটস। গণেশ চতুর্থী, বিশ্বকর্মা পুজো, নবরাত্রি, দুর্গাপুজো, দীপাবলি, কালীপুজো, ছট পুজো.... বস্তুত আগস্ট থেকেই শুরু হয়ে যায় উৎসব মরশুমের বাণিজ্য, যার ভরকেন্দ্রই খুচরো ব্যবসা। সুতরাং খুচরো ব্যবসায় মন্দা সামগ্রিকভাবে যথেষ্ট উদ্বেগজনক বার্তা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ