Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হস্তশিল্প মেলায় ন’দিনে পৌনে দু’কোটির বিক্রি, আলাদাভাবে নজর কাড়ছে পাটের জ্যাকেট-টুপি

শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে বিশ্ববাংলা শিল্পীহাটে জমে উঠেছে রাজ্য হস্তশিল্প মেলা

হস্তশিল্প মেলায় ন’দিনে পৌনে দু’কোটির বিক্রি, আলাদাভাবে নজর কাড়ছে পাটের জ্যাকেট-টুপি
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে বিশ্ববাংলা শিল্পীহাটে জমে উঠেছে রাজ্য হস্তশিল্প মেলা। এখনও পর্যস্ত গত ন’দিনে প্রায় পৌনে দু’কোটি টাকার হস্তশিল্প সামগ্রী বিক্রি হয়েছে। আর এবারই প্রথম এই মেলায় এসে নজর কাড়ছেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডির শিল্পী যোগেশ দেববর্মা। 

Advertisement


বহুবিধ ব্যবহারে পাটকে জনপ্রিয় করতে তিনি নতুন ভাবনায় কাজ করছেন গত তিন বছর ধরে। পাট দিয়ে তৈরি চট, নানা ধরনের ব্যাগ, চটি, জুতো, ঘর সাজানোর নানা সামগ্রীর সঙ্গে সকলেই পরিচিত। কিন্তু যোগেশবাবু সেই পাট দিয়ে তৈরি করছেন আকর্ষণীয় ফুল জ্যাকেট, নেহরু জাকেট, ট্রাউজার, টুপি। পাট দিয়ে এই অভিনব সামগ্রী উৎপাদনের জন্যই এবারের মেলায় আলোচিত নাম যোগেশ দেববর্মা। 


যোগেশবাবু কৃষিকাজ করেন। তিনি বলেন, আমার নিজের শখ ও উৎসাহ থেকেই এই কাজটা শিখেছি। কুরুশ কাঁটা দিয়ে পাটের সুতোতে আমি প্রথমে টুপি, হাতমোজা বানাতে শুরু করি। তারপরে ফুল জ্যাকেট, নেহরু জাকেট, ট্রাউজার্স বানিয়ে সকলের প্রশংসা পেয়েছি। তবে এ ধরনের মেলায় আগে কোনও দিন আসিনি। এবার মেলায় এসে বুঝতে পারলাম আমার তৈরি এই জিনিসের ভালো চাহিদা রয়েছে। যা দেখে সকলেই বিস্মিত হচ্ছেন। 
নিজেই পাট থেকে সুতো বানাচ্ছেন। সেই সুতো দিয়ে কুরুশ কাঁটার সাহায্যে একের পর এক আকর্ষণীয় জ্যাকেট বানিয়ে ফেলছেন। তবে পরিশ্রম যথেষ্ট। যোগেশবাবু বলেন, ট্রাউজার্স, জ্যাকেট, টুপি একটা পুরো সেট বানাতে আমার তিন মাস সময় লাগে। পাট থেকে সুতো বের করি, নানান রং দিই। রংবেঙের পাটের সুতো কুরুশ দিয়ে আকর্ষণীয় ডিজাইনের জ্যাকেট,  ট্রাউজার সব তৈরি করি। জ্যাকেট তৈরির পর তার ভিতরের লাইনিন দেওয়া, চেইন, বোতাম লাগানো সবকিছুই নিজের হাতে করি। 


যোগেশবাবু আরও বলেন, পরিশ্রম এবং পাটের দাম সব মিলিয়ে যা দাঁড়ায় তাতে আমার উৎপাদিত এই জিনিসের দাম একটু বেশি। তাই মেলার স্টলে বহু মানুষ আসছে, উৎসাহ নিয়ে দেখছে। দাম বেশি হওয়ার জন্য সকলে কিনছেন না। তবে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। এটাই আমার অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। আরও বেশি মেলায় যুক্ত হলে ব্যাপক হারে মানুষের সামনে এই জিনিস তুলে ধরতে পারব। এতে এর  চাহিদা ও বিক্রি বৃদ্ধির ব্যাপারে আমি আশাবাদী। 
এদিকে, বিশ্ববাংলা শিল্পীহাটের ইনচার্জ সুদীপ মজুমদার বলেন, এবারের মেলার প্রথম দিন থেকেই মানুষের ভিড় বাড়ছে। প্রতিদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে। ২৫ ডিসেম্বর বড়দিনে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়েছে। ১ জানুয়ারিও বিক্রি ভালো হবে। সব মিলিয়ে গত ন’দিনে আমাদের পৌনে দুই কোটি টাকার জিনিস বিক্রি হয়েছে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মেলা চলবে। তাতে আশা করছি, গতবারের মোট পাঁচ কোটি টাকার বিক্রির রেকর্ড এবার ছাপিয়ে যাবে। • নিজস্ব চিত্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ