ভুবনেশ্বর: ১৯৯৯ সালে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন বৈকুণ্ঠনাথ বেহেরা। সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগে ঘুরেছেন তিনি। পদোন্নতিও হয়েছে। সেই সুযোগে জড়িয়েছেন একের পর এক দুর্নীতিতে! এমন একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ওড়িশার ভিজিলেন্স শাখা। মাত্র ৬ হাজার টাকা সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়া বেহেরার ব্যাংক লকার থেকেই উদ্ধার হয়েছে ২ কোটি টাকা নগদ। এছাড়া হদিশ মিলেছে হিসাব বহির্ভূত একাধিক বাড়ি, সম্পত্তি, বিনিয়োগের নথি ও বিপুল অলংকার। কীভাবে একজন ইঞ্জিনিয়ার এই বিপুল সম্পত্তি ও নগদের মালিক হলেন, তা খুঁজে বের করতে চাইছেন আধিকারিকরা।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী,১৯৯৯ সালে ওড়িশা সরকারে জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে যোগ দিয়েছিলেন বৈকুণ্ঠ। তারপর থেকে অনগ্রসর শ্রেণি কল্যাণ সহ একাধিক দপ্তর ও পরিকাঠামোগত বেশ কিছু প্রকল্পে যুক্ত ছিলেন তিনি। চলতি বছরের শুরুতে অ্যাসিস্ট্যান্ট এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার পদে প্রোমোশন পান। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় তল্লাশির নির্দেশ দেয় ভুবনেশ্বরের স্পেশাল ভিজিলেন্স কোর্ট। তারপরই এদিন অভিযুক্ত ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ৯টি স্থানে হানা দেন তদন্তকারীরা। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডেপুটি পুলিশ সুপার ও ইনসপেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিকদের নেতৃত্বে ভুবনেশ্বর, বালেশ্বর, জাজপুর ও বালিগুড়া সহ একাধিক স্থানে তল্লাশি চলে। তদন্তে নেমে ওই ইঞ্জিনিয়ার ও তাঁর পরিবারের নামে পাঁচটি বহুতলের খোঁজ মিলেছে। এরমধ্যে একটি পাঁচতলা বাড়ি রয়েছে ভুবনেশ্বরের নীলাদ্রি বিহারে। এছাড়া, আরও ১৩টি বহুমূল্য জমির নথিও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। ভুবনেশ্বরের পাশাপাশি জাজপুর ও বারিপদাতে ছড়িয়ে রয়েছে সেই সম্পত্তিগুলি।