সংবাদদাতা, কান্দি: প্রায় সাড়ে ন’ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন হয়ে রইল সালার গ্রামীণ হাসপাতাল। রবিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলল চূড়ান্ত দুর্ভোগ। সাফাইয়ের সময় আন্ডার গ্রাউন্ড কেবল ছিঁড়ে যাওয়ায় এই বিপত্তি বলে জানা গিয়েছে। তবে এদিন রাত সাড়ে আটটার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ওই হাসপাতাল চত্বর সাফাইয়ের কাজ শুরু হয়। একটি জেসিবি করে হাসপাতাল চত্বরে জমে থাকা ময়লা আবর্জনা তুলে ফেলা হচ্ছিল। সকাল ১১টা নাগাদ জেসিবির হাতলে কোনওভাবে আন্ডার গ্রাউন্ড কেবল ছিঁড়ে যায়। ফলে গোটা হাসপাতাল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু তা জানতেও পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসক নুরুল আলম বলেন, তার ছিঁড়ে যাওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পারিনি। বেলা সাড়ে চারটে নাগাদ তা বুঝতে পেরে বিএমওএইচকে জানানো হয়।
এদিকে প্রতিদিনের মতো এদিন সকালেও হাসপাতালে রোগীর ভিড় বাড়তে থাকে। কিন্তু বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় রোগীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। মেল ও ফিমেল ওয়ার্ডের লাইট ও পাখা বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের পর থেকে পানীয় জলেরও সমস্যা দেখা দেয়। হাসপাতালের ইনভার্টারে শুধুমাত্র অফিসের লাইটগুলি জ্বলতে থাকে। চিকিৎসক তৈয়দ মহম্মদ বলেন, তীব্র গরমে টানা ১২ ঘণ্টা ধরে কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। এমন অবস্থায় মাথা ঠান্ডা রাখা যাচ্ছিল না।
তবে চিকিৎসকদের থেকেও রোগীদের অবস্থা আরও ভয়ানক হয়ে দাঁড়ায়। কান্দরা গ্রামের বেগম বিবি বলেন, আমরা ভাবছিলাম বিদ্যুৎ হয়তো এখনই এসে পড়বে। কিন্তু দুপুরের পর ওয়ার্ডের ভিতর এতটাই গরম হয়ে পড়ে যে ঝুঁকি নিয়ে ওয়ার্ডের বাইরে চলে যেতে হয়। গুলহাটিয়া গ্রামের অপর রোগী সাহানি বেগম বলেন, দিনভর বিদ্যুৎ নেই। চিকিৎসকদের বারবার জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল না। খাবার জলের অভাব দেখা দিয়েছিল। রোগীরা তীব্র গরমে ছটফট করছিলেন। এভাবেই টানা সাড়ে ন’ ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে।
যদিও বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে তার কাটার বিষয়টি। সেইসময় একজন ইলেট্রিশিয়ানকে ডেকে পাঠিয়ে কেবল মেরামতের চেষ্টা করা হয়।
এদিকে হাসপাতালে জেনারেটর থাকা সত্ত্বেও তা চালানোর উপায় ছিল না। স্থানীয় ভরতপুর ২ বিএমওএচি ইন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, জেনারেটর রয়েছে কোভিড বিল্ডিংয়ের কাছে। এর ওয়ারিং করা নেই। কাজেই জেনারেটর চালানো যায়নি। ভবিষ্যতে যাতে এমন আর না ঘটে সেদিকে নজর দেওয়া হবে।