Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখার প্রধান

সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখার প্রধান
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাইবার জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ হেডকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। সৌরভ মণ্ডল নামে ব্যাঙ্কের ওই আধিকারিকের অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ লেনদেনের হদিশ মিলেছে। সাইবার প্রতারকদের চক্রে যুক্ত হয়ে প্রতারণার টাকা তিনি নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করতেন বলে অভিযোগ। বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ কমিশন পেয়েছেন। সমস্ত তথ্যপ্রমাণ হাতে আসার পর মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জের কাঁকুলিয়ায় কর্মরত ওই ব্রাঞ্চ হেডকে গ্রেপ্তার করা হয়।
Advertisement
চন্দননগরের বাসিন্দা এক ব্যক্তিকে বছর দুই আগে টেলিগ্রাম অ্যাপের একটি গ্রুপে অ্যাড করা হয়। সেখানে বিশেষজ্ঞ সেজে থাকা জালিয়াতরা জানাত, ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগ করলে বিপুল পরিমাণ লাভ হবে। কারা কারা লাভবান হয়েছে, তার তালিকাও দেওয়া হতো ওই গ্রুপে। যাদের নাম দেওয়া হতো, তারাও যে আসলে জালিয়াত, সেটা বুঝতে পারেননি চন্দননগরের ওই বাসিন্দা। বাড়তি টাকার আশায় তিনি ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখান। এরপর তাঁকে বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে টাকা জমা করতে বলা হয়। জালিয়াতদের কথামতো ধাপে ধাপে তিনি ৪৫ লক্ষ টাকা জমা করেন। এরপর বিভিন্ন মেসেজ পাঠিয়ে প্রতারকরা জানাতে থাকে, তার টাকা কীভাবে দ্বিগুণ হচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় পর তিনি টাকা তুলতে চাইলে প্রতারকরা জানায়, এই টাকা তোলা সম্ভব নয়। নানা অজুহাত খাড়া করতে থাকে তারা। টাকা তুললে দ্বিগুণ চার্জ লেগে যাবে বলেও জানানো হয়। বারবার টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে গ্রুপ থেকে বের করে দেওয়া হয়। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, ক্রিপ্টোতে বিনিয়োগের ফাঁদে পড়ে টাকা খুইয়েছেন। চন্দননগর কমিশনারেটে অভিযোগ হলে পুলিস জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। পরে তদন্তভার নেয় সিআইডি।
অভিযোগকারী যে সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা করেছিলেন, সেগুলির স্টেটমেন্ট বিশ্লেষণ শুরু করেন সিআইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। দেখা যায়, একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। গ্রাহকদের তথ্য জোগাড় করতে গিয়ে দেখা যায়, ভাড়ার অ্যাকাউন্টে টাকা এসেছে। অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে সাতজনকে চিহ্নিত করা হয়। জানা যায়, এরা প্রতারক চক্রের মূল মাথা। তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। যে সমস্ত অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে, তাদেরও চিহ্নিত করা হয়। সেখান থেকেই সৌরভ মণ্ডলের নাম পান তদন্তকারীরা। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা জানায়, সৌরভ হলেন একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ হেড। তিনিও তাদের চক্রে রয়েছেন। সাইবার জালিয়াতির টাকা ওই ব্রাঞ্চ হেডের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা পড়ত। পরে তা স্থানান্তর হয়ে যেত মূল পান্ডার কাছে। এর বিনিময়ে মোটা টাকার কমিশন পেতেন ওই ব্রাঞ্চ হেড। এরপরই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি এভাবে কত টাকা রোজগার  করেছেন জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ