Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সিআইডির হাতে ধৃত শিশু পাচারকাণ্ডের মূল চক্রী জুহি

সিআইডির হাতে ধৃত শিশু পাচারকাণ্ডের মূল চক্রী জুহি
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিশু পাচারকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত বিহারের বাসিন্দা জুলিকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। তার মাধ্যমেই বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে থাকা শিশু বিক্রি চক্রের কারবারিদের হাতে পৌঁছে যেত শিশুরা। বয়ফ্রেন্ডকে সঙ্গে নিয়ে জুলি এই কারবার চালাচ্ছিল। তদন্তে নেমে এই তথ্য হাতে এসেছে সিআইডির। নভেম্বর মাসে সিআইডির হাতে ধরা পড়া মানিক হালদার ও মুকুল সরকারকে জেরা করে জুলির নাম পাওয়া যায়। তার খোঁজে বিহারের পাটনায় পুলিসের টিম পৌঁছয়। কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। এরপরই তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য হাওড়া আদালতে আবেদন জানায় সিআইডি। আদালত তা মঞ্জুর করে। এই খবর জুহির কাছে পৌঁছলে সে হাওড়া আদালতে আত্মসমর্পণ করে। সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নিতে বুধবার আবেদন জানায়। আদালত তা মঞ্জুর করে। এখন জুলির বয়ফ্রেন্ডকে খোঁজা হচ্ছে।
Advertisement
মুকুল ও মানিককে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বিহারের পাটনার বাসিন্দা জুলি এই কারবারের মাথা। তার সঙ্গে এই দম্পতির যোগাযোগ হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে। এরপর তারা শিশু বিক্রির  ব্যবসায় নামে। প্রাথমিকভাবে উঠে আসে মুকুলকে ছ’টি বাচ্চা দিয়েছে জুহি। তার খোঁজে বিহারে গেলে নতুন তথ্য পান তদন্তকারীরা। জানা যায়, তার বিভিন্ন এজেন্ট রয়েছে। আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মহিলাদের এরা টার্গেট করে। তাদের শিশু সন্তানদের কিনে নেয় টাকার বিনিময়ে। পাশাপাশি টাকার লোভ দেখিয়ে গরিব মহিলাদের গর্ভ ভাড়া নেওয়া হয়। তদন্তে জানা যায়, বিহারের একাধিক আইভিএফ সেন্টারে যাতায়াত রয়েছে জুলি ও তার বয়ফ্রেন্ড্রের। বয়ফ্রেন্ড পুরুষদের জোগাড় করে এই সমস্ত আইভিএফসেন্টারে নিয়ে যেত স্পার্ম ডোনেট করার জন্য। তদন্তকারীরা জেনেছেন, বিহারের একাধিক হাসপাতাল ও নার্সিংহোমের ডাক্তারদের সঙ্গে পরিচয় ছিল দু’জনের। সেখানে জন্মানো বাচ্চাদের মৃত বলে বাবা-মাকে জানাতেন নার্সিংহোমের চিকিৎসকদের একাংশ। এরপর সেই বাচ্চা চলে যেত জুহির কাছে। পাশাপাশি বিহারে সে একটি আয়া সেন্টারও খুলেছিল। আয়াদের মাধ্যমে বিভিন্ন হাসপাতাল ও গ্রামীণ এলাকা থেকে বাচ্চাদের জোগাড় করত অভিযুক্ত ও তার বয়ফ্রেন্ড। এ পর্যন্ত সে কত বাচ্চা পাচার করেছে ধৃতকে জেরা করে জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ