নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালসের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরকে সোমবার ভবানীভবনে ডেকে পাঠিয়ে জেরা করল সিআইডি। কবে থেকে তাঁরা সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন সরবরাহ করছেন, স্যালাইন টেস্ট করার জন্য কী পরিকাঠামো রয়েছে এবং তার জন্য কী পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়—এই সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন তাঁকে করা হয় বলে খবর। তিন ঘণ্টার জেরার পর ছেড়ে দেওয়া হয় ওই সংস্থা কর্তাকে। তাঁর পুরো বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে।
Advertisement
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনার পর স্যালাইন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। রোগীর পরিবার দাবি করে স্যালাইনের বিষক্রিয়ায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সিআইডি তদন্তে নেমে জানতে পারে, পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালস নামে সংস্থা রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে স্যালাইন সরবরাহ করে থাকে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে তাদের পাঠানো স্যালাইনের স্টক লিস্ট করেন তদন্তকারীরা। প্রতিটি স্যালাইনের ব্যাচ নম্বর মিলিয়ে দেখা হয়। প্রসূতি মাকে যে বোতল দেওয়া হয়েছিল সেটি সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তে উঠে আসে যে ওই ব্যাচের স্যালাইন আরও অনেককে দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট রোগীদের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল তা নিয়ে খোঁজখবর চালানো হয়। সিআইডি তদন্তে উঠে আসে, স্যালাইন প্রস্তুতকারক সংস্থার নিজস্ব ল্যাবরেটরি রয়েছে। কিন্তু সেখানে সমস্ত স্যালাইন পরীক্ষা করা হয় কি না তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না তদন্তকারীরা। সরকারের সঙ্গে ওই সংস্থার চুক্তির বিষয়টি খতিয়ে দেখেন তাঁরা। তারপরই পশ্চিমবঙ্গ ফার্মাসিউটিক্যালসের টেকনিক্যাল ডিরেক্টরকে ডাকার সিদ্ধান্ত হয়। সেইমতো নোটিস পাঠিয়ে সোমবার সিআইডি দপ্তরে তাঁকে হাজিরা দিতে বলা হয়। এদিন বেলা ১২টা নাগাদ তিনি পৌঁছন। স্যালাইন কীভাবে প্রস্তুত হয়, এজন্য কী কী উপকরণ ব্যবহার করা হয়, নজরদারির জন্য টেকনিক্যাল স্টাফ কারা থাকেন প্রভৃতি যাবতীয় তথ্য তাঁর কাছ থেকে নেন তদন্তকারী অফিসাররা। তাঁর দেওয়া উত্তর খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



