Bartaman Logo
৯ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় গেরুয়া ঝড়, ১৪ আসনে জয়ী বিজেপি তৃণমূলের দখলে তিনটি

নদীয়া জেলাজুড়ে গেরুয়া ঝড়। উত্তর থেকে দক্ষিণে কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল তৃণমূল।

জেলায় গেরুয়া ঝড়, ১৪ আসনে জয়ী বিজেপি তৃণমূলের দখলে তিনটি
  • ৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলাজুড়ে গেরুয়া ঝড়। উত্তর থেকে দক্ষিণে কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল তৃণমূল। কালীগঞ্জ, পলাশীপাড়া, চাপড়া এই তিন বিধানসভায় ঘাসফুল নিজের গড় অক্ষুন্ন রাখতে পারলেও বাকি ১৪টি বিধানসভাতেই পদ্মফুল ফুটেছে। তৃণমূলকে হারাতে হয়েছে নাকাশিপাড়া, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, নবদ্বীপ, তেহট্ট, করিমপুরের মতো আসনগুলি। এমনকী নদীয়া দক্ষিণের মতুয়া গড়েও দাঁত ফোটাতে পারল না তৃণমূল কংগ্রেস। নদীয়া জেলার সিংহভাগ আসনেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে বিজেপি। একুশের বিধানসভার নির্বাচনের থেকেও ছাব্বিশেও অভূতপূর্ব ভালো ফল করেছে বিজেপি। বিশেষ করে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী তারক চট্টপাধ্যায় রেকর্ড মার্জিনে, ৭৭ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছেন। রানাঘাট লোকসভার সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, ‘বাংলার সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়ের মানুষ তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিয়েছে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী বারবার হিন্দু মানুষদের অপমান করেছেন। তার বদলা মানুষ নিয়েছেন। বৃহত্তর বাংলাদেশ তৈরি আটকাতেই বাংলার মানুষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

Advertisement

একুশের লোকসভা নির্বাচনে নদীয়া দক্ষিণে ৯টি বিধানসভার মধ্যে ৮টিতে পদ্মফুল ফুটেছিল। শুধুমাত্র নবদ্বীপ বিধানসভাটি তৃণমূলের দখলে গিয়েছিল। অন্যদিকে নদীয়া উত্তরের আটটি বিধানসভার মধ্যে সাতটিতেই জিতেছিল ঘাসফুল শিবির। শুধুমাত্র কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এবার ছাব্বিশের নির্বাচনের নদীয়া দক্ষিণের ৯টি আসনেই বিজেপি জয়ী হয়েছে। আবার নদীয়া উত্তরের ৮টির মধ্যে ৫টিতেই বিজেপি জয়ী হয়েছে। বিশেষ করে কৃষ্ণনগর দক্ষিণে মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং নাকাশিপাড়া বিধানসভায় কল্লোল খাঁ পরাজিত হয়েছেন। নাকাশিপাড়া বিজেপি প্রার্থী শান্তনু দে ১৭ হাজারের বেশি ফোটে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে কৃষ্ণনগর বিধানসভা তো বিজেপি প্রার্থী সুকান্ত বিশ্বাস প্রায় ৬০ হাজারের ভোটে জয়ী হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এসআইআরের কারণে শুরুর দিকে মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছিলেন। পরে যখন বুঝলেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাদের নাম বাদ দিয়েছে।‌ মানুষ তখন আরও একজোট হয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন।’ 
রাজনৈতিক মহলের দাবি, নদীয়া জেলায় তৃণমূল প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি। তার ওপর মতুয়া ভোট যেমন এককাট্টা হয়েছে। অন্যদিকে সংখ্যালঘু এলাকায় মুসলিম ভোট ভাগ হয়েছে। সোমবার বেলা গড়াতেই নদীয়া জেলায় বিজেপি যে অভূতপূর্ব ফল করতে চলেছে, তা বোঝা যায়। বিজেপির শিবিরে গেরুয়া আবির খেলা শুরু হয়ে যায়। অন্যদিকে তৃণমূলের শিবির ক্রমশ খালি হতে শুরু করে। কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সাধন ঘোষ কার্যত বিজয় মিছিল করে গণনা কেন্দ্র থেকে বের হয়। এমনকী গণনা কেন্দ্রের বাইরে ডিজে বাজিয়ে উল্লাস করতে দেখা যায় বিজেপি কর্মীদের। চাকদহ বিধানসভায় ৩০ হাজারের বেশি ভোটে বিজেপি প্রার্থী বঙ্কিমচন্দ্র ঘোষ, চাপড়া বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী জেবের শেখ ৩০ হাজারের বেশি ভোটে, হরিণঘাটা বিধানসভায় ২০ হাজারের বেশি ভোটে বিজেপি প্রার্থী অসীম কুমার সরকার, কালীগঞ্জ বিধানসভায় তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ‌‌‌ ১০ হাজারের বেশি ভোটে, কল্যাণী বিধানসভায় বিজেপির প্রার্থী প্রায় ৩০ হাজার ভোটে, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী ২৭ হাজারের বেশি ভোটে, রানাঘাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী অসীমকুমার বিশ্বাস ৬৪ হাজারের বেশি ভোটে এবং রানাঘাট উত্তর-পূর্ব বিধানসভায় বিজেপি প্রার্থী অসীম বিশ্বাস ৪০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন। তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ‌‌‌ বলেন, এই জয় আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উৎসর্গ করতে চাই।  রানাঘাটে জয়ের পর উচ্ছ্বাসে ভাসল গেরুয়া শিবির।
                              

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ