সাফারি বয়কট, সংকট পর্যটনে, বক্সায় দ্বিতীয় দিনে আন্দোলন
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: সাফারি বয়কট, ঘোর সংকট পর্যটনে। দশ দফা দাবিতে ১৮টি গ্রামসভার যৌথ মঞ্চ অবস্থান আন্দোলনে নামায় চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বক্সার পর্যটনে। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, তারপরেও জেলার ভূমিপুত্র দুই মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ ও বিশাল লামা নির্লিপ্ত। রবিবারও নিজেদের দাবিতে বনদপ্তরের রাজাভাতখাওয়া চেকপোস্টে অবস্থান চালিয়েছে যৌথ মঞ্চ। 

Advertisement

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বক্সা সহ সারা দেশের জঙ্গল খুলে গিয়েছে। কিন্তু, বিহারের বাল্মিকী টাইগার ফরেস্ট থেকে আনা বাঘিনি ছাড়ার কারণে বনদপ্তর ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত বক্সায় পর্যটনের কাজ বন্ধ রাখে। শনিবার ১০ অক্টোবর থেকে বনদপ্তর এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কিন্তু, সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড়। 
আন্দোলনকারীদের দাবি, বক্সার জঙ্গলে ঢুকতে কোনোভাবেই প্রবেশমূল্য নেওয়া যাবে না। কারণ, প্রবেশমূল্যের জন্য স্থানীয়দেরও হেনস্তা হতে হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের কথায়, রাজাভাতখাওয়ায় পূর্তদপ্তরের বানানো রাজ্য সড়ক থেকে বনদপ্তরের চেকপোস্ট তুলে দিতে হবে। গত মঙ্গলবার থেকে এই দাবিতে বনদপ্তরের ওই চেকপোস্টে ধরনা অবস্থানে বসে যৌথ মঞ্চ। টানা চার দিন ধরনা চলার পর আন্দোলনকারীরা শনিবার চেকপোস্টের সামনে রাজাভাতখাওয়া-জয়ন্তী রাজ্য সড়ক দিনভর অবরোধ করেন। পরে সন্ধ্যায় প্রশাসন আন্দোলনকারীদের বুঝিয়ে কোনোরকমে অবরোধ তুলে দেয়। কিন্তু, আন্দোলনকারীরা তাদের দাবিতে অনড়। তাই রবিবারও চেকপোস্টের সামনে ধরনা অবস্থানে শামিল হন আন্দোলনকারীরা। ফলে এদিনও সাফারির জন্য গাড়ির চাকা গড়ায়নি বক্সার জঙ্গলে। এদিকে, বন্ধ হোমস্টেও। অচলাবস্থা চলায় পর্যটকরাও বক্সা থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন। হিড়িক পড়েছে বুকিং বাতিলের। রবিবার রাজাভাতখাওয়া চেকপোস্টের পাশে বনদপ্তরের টিকিট কাউন্টারে কোনো পর্যটককে টিকিট কাটতে দেখা যায়নি। 
আন্দোলনকারী হোমস্টে মালিক অয়ন নাইডু বলেন, রাজ্যের দুই মন্ত্রী মনোজ ওরাওঁ ও বিশাল লামা জেলার ভূমিপুত্র। কিন্তু, এখানকার ভূমিপুত্র হয়েও দুই মন্ত্রীই আমাদের দাবিদাওয়া নিয়ে কিছু বলছেন না। আমরা কি ভিনগ্রহের মানুষ। নাকি বক্সা দেশের বাইরে? 
স্থানীয় বাসিন্দা বনজন শ্রমজীবী মঞ্চের উত্তরবঙ্গের আহ্বায়ক লালসিং ভুজেল বলেন, রাজাভাতখাওয়ায় পূর্তদপ্তরের রাস্তায় কীভাবে বনদপ্তরের চেকপোস্ট থাকতে পারে? তাই আমাদের দাবি, বনদপ্তরের ওই গেট তুলে দিতে হবে। যদিও এই আন্দোলন নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা। 
অন্যদিকে, গ্রামসভার যৌথ মঞ্চের এই আন্দোলন নিয়ে বনমন্ত্রীকে এদিন একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একইভাবে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও ফোন ধরেননি স্থানীয় বিধায়ক তথা স্বরাষ্ট্র, পার্বত্য বিষয়ক, সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামাও। • নিজস্ব চিত্র।