পুরসভার টাকা আত্মসাতের  অভিযোগে গ্রেপ্তার এসএই
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সরকারি টাকা আত্মসাৎ, পুরসভার কাজে অনিয়মসহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে রঘুনাথপুর পুরসভার একজন সাব অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারকে (এসএই) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার তাঁকে ধরেছে রাজ্য দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি)। ওই কর্মীর বিরুদ্ধে তদন্ত করে দুর্নীতির প্রমাণ পেয়েছেন এসডিও। এরপরই ওই কর্মীকে সাসপেন্ড করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কেস রুজু হয় এসিবিতে। দুর্নীতির টাকায় নিজের এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের নামেও বিপুল সম্পত্তি করেছেন বলে অভিযোগ। 

Advertisement

এসিবি অভিযোগ পেয়েছে, সরকারি কাজের নামে ভুয়ো বিল বানিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থাকে টাকা পাইয়ে দিচ্ছিলেন ওই এসএই। এই টাকার একটা অংশ ঢুকছিল তাঁর অ্যাকাউন্টে। সরকারি জমি দখল করার সুযোগ করে দিয়েছেন বিভিন্নজনকে। তাঁর বিরুদ্ধে অনেকদিন ধরেই অভিযোগ জমা পড়ছিল। তার ভিত্তিতে এসডিও তদন্ত শুরু করেন। তাতে দেখা যায়,  তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থার সঙ্গে একটা যোগসাজশ গড়ে উঠেছিল। বিভিন্ন সরকারি টেন্ডার বেআইনি পথে তাদের পাইয়ে দিয়েছেন। সেসব কাজের পরিমাণও বাড়িয়ে চড়িয়ে দেখানো হয়েছে। অথচ সরকারি কোষাগার থেকে পেমেন্ট হয়ে গিয়েছে খাতাকলমে দেখানো পুরো কাজের। এই দুর্নীতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা।  
এসডিওর তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, বিপুল পরিমাণ সরকারি জমির রেকর্ড বদলে দেওয়া হয়েছে। এই জমিগুলির মালিকানা পেয়ে গিয়েছেন তাঁর পরিচিত ব্যক্তিরা। সামান্য ‘এসএই’ হয়ে তিনি নিজেকে ‘অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার’ বলে দাবি করতেন এবং অপব্যবহার করতেন সেই ভুয়ো ক্ষমতার। বেআইনি নিয়োগও করেছেন তিনি। অ্যাসিসট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারের স্ট্যাম্পও ব্যবহার করতেন।  মহকুমা শাসক তাঁর বিরুদ্ধে রিপোর্ট  জমা দেওয়ার পরই সাসপেন্ড করা হয় ওই এসএই’কে। 
একসঙ্গে রাজ্য সরকারের দুর্নীতি দমন শাখাকে দিয়েও তদন্ত করানো হয়। সেইমতো গত সেপ্টম্বরে জালিয়াতি, প্রতারণাসহ একাধিক ধারায় কেস রুজু হয়। তদন্তে নেমে সরকারি টাকা নয়ছয়ের প্রমাণ পেয়েছে তারাও। তাঁর পাঁচবছরের আয়কর রির্টানের তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। তাতে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, ওই সামান্য সময়েই বিপুল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বেড়েছে এসএই’র। এমনকি, অস্বাভাবিক অঙ্কের নগদও জমা পড়েছে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। পরিমাণ তাঁর আয়ের চেয়ে বেশি। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। তাঁদের সবার এই বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস জানতে তাঁকে দুবার জেরার করার জন্য ডাকা হয়। কিন্তু তিনি হাজিরা দেননি। এরপরই সোমবার পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।