শান্তিপুরে জজ বাড়ির কালীপুজোর ভোগে থাকে বলির মাংস, ইলিশ
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অরিজিৎ ঘোষাল, রানাঘাট: শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী জজ বাড়িরকালীপুজোর বয়স চারশো বছর। কিন্তু আধুনিকতার যুগেও জজ বাড়ির পুজোয়ভাঁটাপড়েনি। চিরাচরিত রীতিমেনে বর্তমানে রাতে মাটির প্রদীপ জ্বলে ওঠে মন্দির চত্বরে।এই পুজোর মূল আকর্ষণ মাকে নিবেদন করা বলির পাঁঠার মাংসের ঝোল ও সরষে ইলিশ। কথিত, প্রায় ৪০০ বছরেরও বেশি আগে এই পুজোর সূচনা করেন পীতাম্বর চট্টোপাধ্যায়। যিনিএকাধারে ছিলেন বিচার ব্যবস্থার জজ এবংশাস্ত্রীয় বিদ্যায় প্রখ্যাত তর্কবাগীশ। বিচার ব্যবস্থা ও ধর্মশাস্ত্রে তাঁর অসামান্য পাণ্ডিত্যের জন্যই পরিবারটি পরবর্তীতে জজ বাড়ি নামেই পরিচিতি লাভ করে। পীতাম্বর চট্টোপাধ্যায় নিজে পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে তন্ত্রসাধনার মাধ্যমে এই পুজোর সূচনা করেছিলেন।আজও সেই ঐতিহ্য বহন করে মন্দিরেপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে সেই পঞ্চমুণ্ডির আসন। জজবাড়ির বর্তমান বংশধর গৌতম চট্টোপাধ্যায় জানান,কালীপুজোর দিন দুপুরদেড়টা থেকেদু’টোর মধ্যে মাকালীকে পঞ্চমুণ্ডির আসনের উপর পাটে তোলা হয়। পাটে ওঠার ঠিক পরেই একটি পাঁঠা বলি দেওয়া হয়। বর্তমানে ওই একটি পাঁঠাই বলি হয়। সেই বলির মাংসই পেঁয়াজ ও রসুন ছাড়া রান্না করে পুজোর দিন মাকে ভোগ হিসেবে নিবেদন করা হয়। মাংসের পাশাপাশি মায়ের ভোগে থাকে ইলিশ মাছের সরষে বাটা। এছাড়াও সাদা ভাত, পোলাও, খিচুড়ি, নানা ধরনের ভাজা, তরকারি,চাটনি, পায়েস ও রকমারি মিষ্টি নিবেদন করা হয়। এই পুজোর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলপক্কান্ন ভোগ। বিশেষ এই ভোগের জন্য দেবীকে এখানে ‘মাপক্কান্নশ্বরী’ নামেও ডাকা হয়। জজ বংশের দীক্ষিত মহিলারাইসবভোগ রাঁধেন। কালীপুজোর দিন নিশিরাতে তন্ত্রমতে মায়ের মূল আরাধনা হয়। পুজো দেখতে এবং মাকে পাটে তোলার সময় ভক্তদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। কালী পুজোর পরের দিন বিকেলে হয় মায়ের নিরঞ্জন। একসময় সুবিশাল শোভাযাত্রা করে জজবাড়ির প্রতিমা নিরঞ্জনে যেত। তবে বর্তমানে লোকবলের অভাবে সেইজাঁকজমকপূর্ণশোভাযাত্রা হয় না।

Advertisement