নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ভ্যাট উপচে আবর্জনা চলে এসেছে রাস্তার মাঝ বরাবর। তার সঙ্গে রাস্তায় গড়াগড়ি খাচ্ছে বড় বড় বস্তা। সেগুলির ভিতরে ঠেসে ভরা হয়েছে ছাঁটকাপড় বা কাপড়ের টুকরো। কখনও সেগুলি বস্তা থেকে বেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তাজুড়ে। কখনও আস্ত বস্তাই ভ্যাট থেকে গড়িয়ে চলে আসছে রাস্তায়। সেই টুকরো কাপড় জড়িয়ে যাচ্ছে বাইক-টোটোর চাকায়। ফলে ব্যস্ত হাওড়া-আমতা রোডে দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রতিদিন বাড়ছে। বিষয়টি নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। অভিযোগ, বেলগাছিয়া ভাগাড়ে আবর্জনা ফেলা বন্ধ হওয়ায় আশপাশের পঞ্চায়েত এলাকা থেকে দেদার আবর্জনা এনে ফেলা হচ্ছে পুরসভা এলাকার মধ্যে থাকা ওই ভ্যাটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হাওড়া-আমতা রোডের উপর শেখপাড়া এলাকার ভ্যাটটি গোটা ৫০ নম্বর ওয়ার্ডে একমাত্র আবর্জনা ফেলার জায়গা। সংলগ্ন ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবর্জনাও ফেলা হয় রাজ্য সড়কের পাশে থাকা এই ভ্যাটে। এতদিন প্রতি বেলায় একবার করে ভ্যাট পরিষ্কার করে আবর্জনা বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ফেলা হতো। মাঝেমধ্যে সাফাইয়ের কাজ বন্ধ থাকলেও ভ্যাট উপচে আবর্জনা রাস্তায় চলে আসার মতো পরিস্থিতি ছিল না। গত মার্চ মাস থেকে বেলগাছিয়া ভাগাড় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভ্যাট নিয়মিত পরিষ্কার করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে বাঁকড়া-১, বাঁকড়া-২, সালেম বস্তি সহ বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকা থেকে লরিতে করে বড় বড় বস্তা এনে ফেলে দেওয়া হচ্ছে এই ভ্যাটে। বস্তার মধ্যে ছাঁটকাপড়, কাগজের বাক্স, থার্মোকল ঠাসা থাকছে। কুকুর বস্তা ছিঁড়ে খাবার খুঁজছে। কাপড়ের টুকরো ছড়িয়ে পড়ছে রাস্তায়। সকাল থেকেই হাওড়া-আমতা রোডে বিভিন্ন রুটের বাস, লরি, অটো, টোটো, বাইকের যাতায়াত লেগে থাকে। কিন্তু রাস্তার এই অবস্থার কারণে বেলা বাড়লেই তীব্র যানজট হচ্ছে শেখপাড়া এলাকায়। চাকায় কাপড় জড়িয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায় প্রতিদিন। ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা বলছেন, ‘বাঁকড়া এলাকায় বেশ কিছু শপিং স্টল ও হাট রয়েছে। সেখান থেকেই রাতে ছাঁটকাপড়ের বস্তা এনে এই ভ্যাটে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় দাসনগর থানায় বহুবার বিষয়টি জানানো হয়েছে। প্রশাসন কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’ উল্টোদিকেই রয়েছে একটি পেট্রল পাম্প। জানা গিয়েছে, সেই পাম্পে সিসিটিভি না থাকায় রাস্তার উল্টোদিকে কে বা কারা বস্তাগুলি ফেলে যাচ্ছে, তার পাকাপোক্ত প্রমাণ মিলছে না। প্রশাসনও উদাসীন বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার ত্রিলোকেশ মণ্ডল বলেন, ‘পঞ্চায়েত এলাকা থেকে এসে এখানে আবর্জনা ফেলে যাওয়া হচ্ছে। মানুষের সমস্যা বাড়ছে। ব্যস্ত রাস্তার পাশে এভাবে ভ্যাট রাখা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। দ্রুত ওই ভ্যাট ভেঙে গোটা এলাকা পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।’ -নিজস্ব চিত্র