Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সল্টলেকে সব্যসাচীর বাড়ির পরিত্যক্ত দশা দরজার মুখে ঘাস, দেওয়ালে ঝুলছে পুলিশ লেখা বোর্ড

সল্টলেকে সব্যসাচীর বাড়ি এখন পরিত্যক্ত। পুলিশ লেখা বোর্ড ঝুলছে, তদন্তে উদ্ধার হয়েছে সোনার গয়না। বিস্তারিত পড়ুন।

সল্টলেকে সব্যসাচীর বাড়ির পরিত্যক্ত দশা  দরজার মুখে ঘাস,  দেওয়ালে ঝুলছে পুলিশ লেখা বোর্ড
  • ৩ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ৪ মে’র আগেও নেতা-কর্মীদের ভিড়ে গমগম করত সল্টলেকের পেল্লায় বাড়িটি। গেটের মুখে পুলিশ ও সিকিউরিটি। দাপুটে নেতার সঙ্গে সহজে দেখা করা যেত না। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পর সেই ছবি সম্পূর্ণ উধাও। বিধাননগরের প্রথম মেয়র সব্যসাচী দত্তের গোটা বাড়ির এখন একপ্রকার পরিত্যক্ত দশা। গেটের মুখে গজিয়ে উঠেছে ঘাস। বাড়ির দেওয়ালে ঝুলছে পুলিশ লেখা বোর্ড।  তোলাবাজির অভিযোগে সব্যসাচী এখন শ্রীঘরে।

Advertisement

সল্টলেকের দাপুটে তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্ত। ২০১১ এবং ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পরপর দু’বার রাজারহাট-নিউটাউন থেকে তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক হন। ২০১৫ সালে বিধাননগর কর্পোরেশন গঠিত হয়। প্রথম মেয়রও হন তিনি। পরে দলের সঙ্গে মতানৈক্য হওয়ায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে যান। তারপর ২০২১ সালে বিধাননগর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে বিজেপির টিকিটে প্রার্থী হন। পরাজিত হন। জয়ী হন সুজিত বসু। পরে ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন সব্যসাচী। এবার বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে বারাসত কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিল তৃণমূল। তবে বিজেপির কাছে হেরে যান। 
তোলাবাজির অভিযোগে ৮ জুন বিধাননগর উত্তর থানা গ্রেপ্তার করে দাপুটে নেতা সব্যসাচীকে। তাঁকে নিয়ে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালায় পুলিশ। মেলে নানা ধরনের নথিপত্র। তদন্ত চলাকালীন উঠে আসে তাঁর বান্ধবী টিনা সাহা ভৌমিকের নাম। নদীয়া জেলার করিমপুর থানার কিশোরপুরে তাঁর বাপের বাড়ি। স্বামীর বাড়ি নদীয়ার নাজিরপুর থানার বাগাডোবায়। তিনি নদীয়া জেলা পরিষদের সদস্যা। পুলিশ সব্যসাচীকে নিয়ে টিনার বাড়ি এবং তাঁর স্বামীর বাড়ি গিয়ে সেখান থেকে প্রায় ৩ কেজি সোনার গয়না উদ্ধার করে। সল্টলেকে একটি রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংকের দু’টি লকারে সব্যসাচীর মজুত করা আরও ৩ কেজি সোনার গয়না এবং অন্যান্য গয়না, কয়েন ও বার মিলিয়ে ১ কেজি রূপো উদ্ধার করে। সব্যসাচী এখন পুলিশ হেপাজতে রয়েছেন।
ডিএল ব্লকে তাঁর বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে সে কাজ বন্ধ। তবে বাড়ির দেওয়ালে কেন ‘পুলিশ’ লেখা সাইনবোর্ড রয়েছে তা স্পষ্ট নয়। তাঁর বাড়ির সামনে এখন অনেকেই থামছেন। তাকিয়ে দেখছেন। কেউ ছবিও তুলছেন। বলছেন, এটাই সব্যসাচী দত্তর বাড়ি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ