কিয়েভ, ২৫ মে: যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চালাচ্ছে আমেরিকা। শান্তি চুক্তির জন্য একদফা তুরস্কে বৈঠকও হয়েছে। তারপরেও যুদ্ধ থামার ইঙ্গিত নেই রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। কারণ ফের ইউক্রেনে আকাশপথে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে মস্কো। গত তিন বছরে যুদ্ধ চলাকালীন আকাশপথে এটাই সবচেয়ে বড় হামলা বলে দাবি করেছে ইউক্রেন। রাশিয়া, তাঁদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে ইউক্রেনের একাধিক শহর ও প্রদেশে হামলা চালিয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যার ফলে মৃত্যু হয়েছে কমপক্ষে ১৩ জনের। জখম বহু।
কিয়েভের দাবি, মস্কো প্রায় ৩৬৭টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে একাধিক শহরে হামলা চালিয়েছে। গতকাল, শনিবার(স্থানীয় সময়) রাত থেকেই এই হামলা চালিয়েছে ক্রেমলিন। ইউক্রেনের সেনা মোট ২৬৬টি রাশিয়ান ড্রোন ও ৪৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে। কিন্তু মস্কো এত বড় হামলা চালিয়েছে যে ইউক্রেনের সেনার পক্ষে তা আটকানো সম্ভব হয়নি। ঝাইটোমির, কিয়েভ, খাড়কিভ, মইকোলায়িভ, টেরনোপিলের মতো জায়গায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে মস্কো। এই হামলার জেরে একাধিক বহুতলের ক্ষতি হয়েছে। বেশ কিছু পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়ার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদোমির জেলেনস্কি। আমেরিকাকে তীব্র কটাক্ষও করেছেন তিনি। জেলেনস্কি বলেছেন, ‘এই হামলার পর আমেরিকা ও বিশ্ব চুপ করে রয়েছে যা পুতিনকে আরও বেশি করে উৎসাহ দিচ্ছে। রাশিয়ার এই জঙ্গি হামলার জন্য তাঁর উপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করাই যায়।’
অপরদিকে মস্কোর দাবি, তাঁরা ৯৫টি ড্রোন ধ্বংস করেছে, যেগুলির মাধ্যমে হামলা চালানোর চেষ্টা করেছিল ইউক্রেন। মোট ১২টি ড্রোন মস্কোর কাছেই চলে গিয়েছিল যা ধ্বংস করা গিয়েছে, দাবি ক্রেমলিনের। এই মুহূর্তে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে বন্দি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তার মাঝেই মস্কোর এই ভয়াবহ হামলা ফের যুদ্ধের নিভতে থাকা যজ্ঞে ঘি দিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।