Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

দুঃসময়েও হেলদোলহীন রাসেলরা

দুঃসময়েও হেলদোলহীন রাসেলরা
  • ২০ এপ্রিল, ২০২৫ ১৬:০৪
Prefer us on Google

সৌরাংশু দেবনাথ, কলকাতা: রাসেল কোথায়, এ তো রাসেলের ভাই!

Advertisement

ক্লাবহাউসের লোয়ার টিয়ারে বসে থাকা জনা চারেক কচিকাঁচার মধ্যে গুঞ্জন শুরু। সত্যিই তো, ‘দ্রে রাস’ উধাও। টিমবাস থেকে ক্যারিবিয়ান মহাতারকা নেমেছিলেন সবার শেষে। ইয়ারফোন লাগিয়ে ব্যাট টানতে টানতে ঢুকে পড়েন ড্রেসিং-রুমে। তারপর পাত্তা নেই ঘণ্টাখানেকের বেশি। কোথায় তিনি? ততক্ষণে দু’দলে ভাগ হয়ে নারিনদের ফুটবল খেলা শেষ। ফিল্ডিং প্র্যাকটিসও সারা। বোলিং কোচ ভরত অরুণের সঙ্গে আলোচনার পর একপ্রস্ত বোলিং হয়ে গিয়েছে বরুণ চক্রবর্তীর। হাইকোর্ট এন্ডের দিকে গোল হয়ে দাঁড়িয়ে নতুন সাপোর্ট স্টাফ অভিষেক নায়ারকে স্বাগতও জানান সকলে। দেশোয়ালি ভাই রভম্যান পাওয়েল পর্যন্ত নেটে ঝড় তুলেছেন। কিন্তু রাসেলের দেখা নাই রে, রাসেলের দেখা নেই!
পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে নির্লজ্জ পরাজয়ের পর দিন তিনেক আত্মসমীক্ষাতেই ডুবে ছিল বেগুনি শিবির। ইডেনমুখো হয়নি দল। কিন্তু এত বিশ্রামেও যেন রাসেলের ক্লান্তি কাটেনি। ব্যাটিং-বোলিং তো দূর, মাঠে নামতেই যেন অনীহা। অথচ, চলতি মরশুমে পারফরম্যান্সের থেকে আলোকবর্ষ দূরে তিনি। পাঁচ ইনিংসে এসেছে মোটে ৩৪ রান। বল হাতে ইকনমি রেট ১৩-র উপর। কোথায় ঘাড় গুঁজে পড়ে থাকবেন, তা নয়, দুলকি চালে হাওয়া খেয়ে বেড়ালেন মাঠে। ফাঁকিবাজি ছাড়া একে আর কী-ই বা বলা যায়!
শোনা গেল, দল যখন ঘাম ঝরাচ্ছে, রাসেল তখন ইন্ডোরে। সেখানে কী করছিলেন কে জানে! তিনি মাঠে নামতে নামতে রিঙ্কুদের নকিং শেষ। অনুশীলনের চেয়ে রাসেলকে বেশি সময় দেখা গেল মাথায় তোয়ালে জড়িয়ে ঘুরতে, সবুজ ঘাসে গড়াগড়ি যেতে। শেষ পর্যন্ত গোটা দশেক ডেলিভারিতে চালানোর পর গ্লাভস খুলে নেটের পাশেই বসে পড়লেন ক্যারিবিয়ান তারকা। ক্লান্ত, বিধ্বস্ত— না কি অন্যকিছু? তবে তাগিদের অভাব তো স্পষ্টই। এমন অনিচ্ছুক ঘোড়া দিয়ে আর যাই হোক যুদ্ধ জেতা যায় না। বরং অনেক বেশি সিরিয়াস লাগল সুযোগ না পাওয়া পাওয়েলকে। একবার তো আউট হয়ে রেগে ব্যাট দিয়ে স্টাম্প ভেঙে ফেলেন তিনি। নারিন, গুরবাজও লম্বা সময় ব্যাট করলেন। অ্যানরিখ নর্তজে, বৈভব অরোরা উজাড় করে দিলেন বোলিংয়ে। অথচ সেই জোশটাই অদৃশ্য থাকল রাসেলের মধ্যে। যেন ঘুমাতে পারলে ভালো হয়!
নাইট টিম ম্যানেজমেন্টের অবশ্য রাতের ঘুম উধাও। পরের সাত ম্যাচের মধ্যে পাঁচটাতে জিততে হবে। নইলে প্লে-অফ আশার গঙ্গাপ্রাপ্তি নিশ্চিত গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। শনিবার বিকেলে মাঠে পৌঁছেই কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত তাই চিন্তিত মুখে ছোটেন বাইশ গজ পর্যবেক্ষণে। পাশাপাশি দুটো পিচের মধ্যে অবশ্য বিশেষ তফাত নেই। তাঁর গুরুগম্ভীর মুখে তাই হাসি ফোটেনি। কিছুক্ষণ পরে পিচের পাশে গভীর আলোচনায় মগ্ন দেখাল কোচের সঙ্গে ক্যাপ্টেন রাহানেকে। সিএবিতে অবশ্য চলছে ফিসফাস, যারা একশো রানও তুলতে পারে না চাহালের সামনে, তারা কোন মুখে ঘূর্ণি পিচ চায়? বল ঘুরলে রশিদ খান তো পুরো নাচিয়ে ছাড়বেন!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ