সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর : পুজোর আর মেরেকেটে দু’মাস বাকি। ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নিচ্ছে ক্লাব ও বারোয়ারিগুলি। ঠিক তখনই কৃষ্ণনগরের বিভিন্ন অস্ত্র সজ্জার শিল্পালয়ে বাজছে হাতুড়ির টংটং শব্দ, ধাতুর ঝনঝনানি। পলিশের রঙের গন্ধে চরিদিক ম-ম। আবার কেউ নিঃশব্দে কাগজের অস্ত্র তৈরি করে যাচ্ছেন। কারণ, দেবী আরাধনার অপরিহার্য উপকরণ দেব-দেবীর অস্ত্র- তৈরিতে এখন ব্যস্ত কৃষ্ণনগরের খ্যাতনামা শিল্পীরা।
বহু কাল আগে থেকেই কৃষ্ণনগরের কারিগররা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন সাজসজ্জা থেকে শুরু করে এমন সব দেব অস্ত্র, যা আজও রাজ্যের বহু বড়ো পুজো মণ্ডপে দেবী মূর্তির শোভা বাড়াচ্ছে। মা কালী, দুর্গা থেকে শুরু করে মা জগদ্ধাত্রীর হাতে ওঠা খড়ঙ্গ, ত্রিশূল, চক্র, ধনুক-বাণ কিংবা গদা- প্রতিটি অস্ত্রের পিছনে লুকিয়ে আছে কৃষ্ণনগরের শিল্পীদের অগাধ নিষ্ঠা ও যত্ন।
বেশিরভাগ শিল্পী বলেন, প্রতিবছর পুজোর অনেক আগে থেকেই অর্ডার আসতে শুরু করে । তবে পুজোর আগেই সব থেকে চাপ থাকে। এখন দিনে ১০-১২ ঘণ্টা কাজ করেও সময় মেলানো যাচ্ছে না। অনেক মণ্ডপে এখন বিশেষ নকশার অস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। অস্ত্রের দাম সাইজের উপর নির্ভর করে। তবে ন্যুনতম দু’শো টাকা থেকে শুরু। থিমের অস্ত্র সজ্জার প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম ওঠে।
আর এক কারিগর পিংকু বোস বলেন, ফি-বছর পুজোর প্রায় তিন মাস আগে থেকেই অর্ডার আসতে থাকে। এবারও কলকাতা, নদীয়া, হুগলি, আসানসোল এমনকি, বিহার থেকেও অর্ডার এসেছে। অনেক পুজো কমিটি এখন থিম ও দেবী রূপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অস্ত্রের অর্ডার দিচ্ছে।
আরেক শিল্পী ছোট্ট নাগ বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে এই রঙিন কাগজের অস্ত্র ব্যবহার সঙ্গে জড়িত। এখন ছেলেমেয়েরা অন্য পেশায় চলে গেলেও তবু আমরা এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছি। সব কাঁচামাল কলকাতা থেকেই আসে। এবছর অর্ডার ভালো আছে।