


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পঞ্চায়েত হোক বা পুরভোট—সোনারপুর উত্তর ও দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকায় এগিয়ে তৃণমূল। কিন্তু রাজপুর সোনারপুর পুরসভার একাধিক ওয়ার্ড, যেখানে আবাসনের সংখ্যা বেশি, সেখানেই ফল খারাপ হয়েছে শাসকদলের। তৃণমূল নেতাদের দাবি, পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হল, বহুতলবাসীর মুখ ফিরিয়ে থাকা। গত লোকসভা ভোটে এমনই চিত্র ধরা পড়েছে এই এলাকায়। তাই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আবাসনের ভোটারের প্রতি বাড়তি নজর দিচ্ছে তৃণমূল। বাড়তি জনসংযোগের পাশাপাশি তাঁদের অভাব-অভিযোগ শুনে সেসব সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হবে বলে তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়েছে।
২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে এই পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টিতে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। এরমধ্যে ১, ৫, ২৮, ২৯, ৩১ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে দ্বিতীয় স্থানে ছিল ঘাসফুল শিবির। এগুলি সোনারপুর উত্তর কেন্দ্রের অধীনে। সোনারপুর দক্ষিণে তারা পিছিয়ে ছিল ৯, ১১, ১২, ১৫, ২৪ এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে। তৃণমূলের দাবি, সব ওয়ার্ডে ব্যবধান বেশি নয়। তবে এই ফল প্রত্যাশিত ছিল না। সূত্রের খবর, এই পিছিয়ে থাকা ওয়ার্ডগুলির মধ্যে ১, ২৪, ২৬ ২৮ এবং ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে আবাসনের ভোটারই বেশি। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে পুর এলাকায় ভালো ফল করলেও লোকসভা ভোটে এতগুলি ওয়ার্ডে কেন পিছিয়ে থাকল দল, সেটাই ছিল বড়ো প্রশ্ন। সাধারণত, আবাসনের বাসিন্দাদের ভোটদানে একটা অনীহা থাকে। এবার অবশ্য আবাসনের ভিতরেই বুথ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে আবাসনের বুথে ভোটদানের হার বাড়বে। তাই বহুতলের আবাসিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে দলীয় কর্মী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। একইভাবে যেসব ওয়ার্ডে কাউন্সিলাররা এখনও সক্রিয় হননি, তাঁদের এখনই মাঠে নামার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসআইআরের কারণে যেহেতু দুই বিধানসভা কেন্দ্রেই ভালো সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে বা বিচারাধীন রয়েছে, সে কারণে পিছিয়ে থাকা বুথগুলিতে বাড়তি গুরুত্ব দিতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে ঘাসফুল শিবির।
পুরসভা এলাকার এই পরিসংখ্যান অবশ্য আশার আলো দেখাচ্ছে বিজেপিকে। এই ওয়ার্ডগুলিতে পদ্মপার্টি শাসকদলকে চাপে রাখবে বলেই মনে করছে তারা। সাধারণ মানুষের বক্তব্য, কাজে খামতি ও কয়েকজন কাউন্সিলারের ঔদ্ধত্যের কারণেই অনেক ওয়ার্ডে বিজেপি লিড পেয়েছিল। এদিকে, আবাসনের ভোটারদের নিয়ে তৃণমূলের এই পরিকল্পনাকে কটাক্ষ করেছে গেরুয়া শিবির। তাদের দাবি, জনসংযোগ সব দলই করবে। এখন কেন এসব করতে হচ্ছে তৃণমূলকে! বিজেপির যাদবপুর সংগঠনিক জেলার সভাপতি মনোরঞ্জন জোদ্দার বলেন, আবাসনের সচেতন ভোটাররা তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। এটাই স্বাভাবিক। এটা বিজেপির পক্ষে অ্যাডভান্টেজ।