Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শুনানিতে গরহাজির ভোটারদের নথি জোগাড়ে তৎপর শাসকদল

এসআইআরের শুনানিতে হাজির না হওয়া কারও নথির অভাব রয়েছে কি না, তা খোঁজ নিচ্ছে তৃণমূল। এব্যাপারে দলের বুথস্তরের কর্মীদের কাছে দলের তরফে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে গিয়েছে।

শুনানিতে গরহাজির ভোটারদের নথি জোগাড়ে তৎপর শাসকদল
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: এসআইআরের শুনানিতে হাজির না হওয়া কারও নথির অভাব রয়েছে কি না, তা খোঁজ নিচ্ছে তৃণমূল। এব্যাপারে দলের বুথস্তরের কর্মীদের কাছে দলের তরফে প্রয়োজনীয় বার্তা পৌঁছে গিয়েছে। বৈধ ভোটার প্রমাণে নথি হিসাবে ডোমিসাইল শংসাপত্র গ্রহণযোগ্য বলে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করায় তৃণমূল আদাজল খেয়ে ময়দানে নেমেছে। ফলে বাঁকুড়ায় শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত না হওয়া প্রায় ন’হাজার ভোটারকে চিহ্নিত করে বৈধদের প্রয়োজনীয় নথি জোগাড়ে তৃণমূল সাহায্য করবে। 

Advertisement

বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এসডিও বা তার উপরেরস্তরের কোনও আধিকারিকের ইস্যু করা ডোমিসাইল শংসাপত্র এসআইআরের নথি হিসাবে গ্রহণযোগ্য হবে। ভোটাররা তা নিজ নিজ বুথ লেভেল অফিসারের (বিএলও) কাছে জমা দিতে পারবেন। 
বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী বলেন, কোনো বৈধ ভোটারের নথি না থাকলেও ওই বুথের লোকজন প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে সংশ্লিষ্টের স্থায়ী বাসিন্দার দাবিকে সমর্থন করলে তালিকায় নাম উঠবে। আমরা বুথে বুথে কর্মীদের কাছে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছি। 
বাঁকুড়া পুরসভার চেয়ারপার্সন অলকা সেনমজুমদার বলেন, ডোমিসাইল শংসাপত্র চেয়ে আমাদের কাছে বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আবেদনপত্র জমা পড়ছে। আমরা শংসাপত্র ইস্যু করে প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছে চূড়ান্ত সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য পাঠাচ্ছি। 
বিজেপি-র বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বলেন, বৈধ ভোটারদের নাম তালিকায় থাকুক। তাতে আমাদের কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু, অনুপ্রবেশকারীদের নাম যাতে তালিকায় না থাকে তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। 
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ায় এসআইআরের শুনানির জন্য ২ লক্ষ ৯৬ হাজার ভোটারকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। প্রায় ন’হাজার ভোটার শুনানি কেন্দ্রে উপস্থিত হননি। যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁদের অনেকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারেননি। ফলে চূড়ান্ত তালিকায় ওইসব ভোটারের নাম ওঠা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। যাঁদের কোনো নথি নেই, তাঁরাই মূলত শুনানি কেন্দ্র এড়িয়ে গিয়েছেন বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। তবে কেউ কেউ অবশ্য বাইরে থাকার কারণে শুনানিতে অংশ নিতে পারেননি। তাঁদের সকলেই নিজ নিজ বিএলও-র কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারবেন বলে বাঁকুড়া জেলা নির্বাচন দপ্তরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন। তৃণমূলের তরফে প্রথম থেকে বৈধ ভোটারদের পাশে থাকার কথা জানানো হয়েছিল। ফলে এদেশের বাসিন্দা কেউ যাতে নথি জোগাড় করতে না পারার কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, তা দলের তরফে দেখা হচ্ছে। 
অরূপবাবু বলেন, নির্বাচন কমিশন ক্ষণেক্ষণে সিদ্ধান্ত বদল করছে। তারজন্য মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে। অনেকেই হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। এরকম অদূরদর্শী কমিশন আগে কোনোদিন দেখা যায়নি। আগাম প্রস্তুতি না নিয়ে শুধুমাত্র বাংলা বিরোধিতার কারণে এসআইআর করার ফলে, যা হওয়ার তাই হচ্ছে।    

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ