


বারো হাতের জাদুতে যে মজেছে, সে এর মর্ম বোঝে। একথা নিশ্চয়ই আপনিও শুনেছেন। এই জাদুর প্রেমে পড়েছেন কি? শাড়ি আসলে ভালোবাসার আর এক নাম। মায়ের আঁচল থেকে যার প্রতি মায়ার বুনন শুরু। সেই শাড়ি যখন নিজে পছন্দ করে কিনছেন পরবেন বলে, তা তো অবশ্যই স্পেশাল। কিন্তু জানতে হবে শাড়ি পরার কায়দা। উৎসবের মরশুম চলছে। দীপবলির দিন শাড়িতে সাজুন। এলোমেলো করে শাড়ি পরলে কিন্তু সাজ নষ্ট হবে। আবার আড্ডার মেহফিলে বা পুজোর অঞ্জলি দিতে গিয়ে কুঁচি খুলে গেলেও হাস্যাস্পদ হতে হবে। শিখে নিলে সহজেই শাড়ি পরতে পারবেন। পরামর্শ দিলেন স্টাইলিস্ট অজপা মুখোপাধ্যায়।
হাফ শাড়ি স্টাইল
প্রতিদিন যাঁদের শাড়ি পরতেই হয়, তাঁরা পুজোর সময় একঘেয়েমি থেকে বেরতে হাফ শাড়ি স্টাইলে পরে দেখুন। ফ্ল্যাট পালাজো এবং হাফ ড্রেপ দিয়ে এই শাড়ি পরার কায়দা তৈরি করতে হয়। কোনও প্লিট না করে শুধু আঁচল কাঁধে ফেলে তৈরি করতে পারেন। সাধারণ অথচ স্টাইলিশ লুক আসবে।
বেল্ট স্টাইল
কোমরের উপর স্টেটমেন্ট বেল্ট পরে নিন। মেটাল, লেদার, সিক্যুইন— অনেক ধরনের বেল্ট বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। কোন ধরনের ফ্যাব্রিকের শাড়ি পরছেন, সেটা মাথায় রেখে বেল্ট বেছে নিন। এভাবে শাড়ি পরে ফিউশন লুক তৈরি করা যায়। একরঙা তসর, খাদি, প্রিন্টেড সিল্কের সঙ্গে এই ধরনের স্টাইল ভালো মানাবে।
প্যান্টের সঙ্গে মিলেমিশে
যাঁরা প্রথমবার শাড়ি পরছেন, লম্বা ড্রেপিং নিয়ে ঝামেলায় পড়তে না চাইলে প্যান্টের সঙ্গে শাড়ি পরে স্টাইল করতে পারেন। ডেনিম, লেগিন্স, জেগিন্স জাতীয় প্যান্ট পরুন। অন্যধারার লুক চাইলে এমনভাবে ড্রেপ করুন যাতে হাঁটলে প্যান্ট দেখা যায়। আবার হাঁটলে যাতে সমস্যা না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। যে কোনও হালকা ফ্যাব্রিক এক্ষেত্রে মানানসই হবে।
ধোতি স্টাইল
এই ধরনের শাড়ি পরার কায়দা ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। শাড়িটা পায়ের মাঝখান দিয়ে প্লিট করে গুঁজে নিতে হবে। কাঁধে আঁচল ফেললে ধোতি স্টাইল তৈরি হবে। সোনালি বর্ডারের সাদা বা ঘিয়ে রঙের দক্ষিণী শাড়ি এভাবে পরতে পারেন।
কেপ স্টাইল
শাড়ি কোমরে একবার গুঁজে নিয়ে আঁচলটা ঘাড়ের পিছন দিয়ে এনে দু’পাশে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এর সঙ্গে বেল্ট জুড়ে নিলে ‘বস’ লুক পেতে পারেন।
স্কার্ফ স্টাইল
হালকা শীতের আমেজে দীপাবলির সন্ধেয় নরম শাড়ি স্কার্ফ স্টাইলে পরুন। তাপমাত্রার পরিবর্তনে এই স্টাইলে ঠান্ডা লেগে যাবে না। শাড়িটা কোমরে জড়িয়ে আঁচলটা কাঁধে স্কার্ফের মতো ড্রেপ করতে হবে। প্রথমবার যাঁরা শাড়ি পরছেন, এটা তাঁদের জন্যও আদর্শ।
কুঁচি দিয়ে শাড়ি
ছোট থেকে সব মেয়েই মায়েদের কুঁচি দিয়ে পরিপাটি করে শাড়ি পরতে দেখেছেন। সেভাবে আটপৌরে সাজে সেজে উঠুন পুজোর দিনে। পেটিকোট দিয়ে শাড়ি পরা আরামদায়ক না মনে হলে স্ট্রেট ফিট প্যান্ট দিয়েও পরতে পারেন। কুঁচি দিয়ে শাড়ি পিছনে আঁচল করে পরুন। এ যেন চিরন্তন পুজোর সাজ।
স্বরলিপি ভট্টাচার্য