Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নিয়ম ভেঙে গাড়ি চালানোর অভিযোগ, এক বছরে ৫০০ চালকের লাইসেন্স বাতিল ও সাসপেন্ড করল আরটিও

ঘটনা ১: আমতলার কাছে বিনা হেলমেটের এক বাইকচালককে দেখে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিস তাঁকে দাঁড়াতে বলেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নিয়ম ভেঙে গাড়ি চালানোর অভিযোগ, এক বছরে ৫০০ চালকের লাইসেন্স বাতিল ও সাসপেন্ড করল আরটিও
  • ৬ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ঘটনা ১: আমতলার কাছে বিনা হেলমেটের এক বাইকচালককে দেখে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিস তাঁকে দাঁড়াতে বলেন। হেলমেট ছাড়া কেন তিনি বাইক চালাচ্ছেন, প্রশ্ন করলে কোনও উত্তর দিতে পারেননি। অগত্যা জরিমানা করা হয় ওই বাইকচালককে। জরিমানা করতে গিয়ে চোখ কপালে ওই ট্রাফিক পুলিসের। কারণ পোর্টাল থেকে জানা যায়, এর আগেও এই বাইকচালক ধরা পড়েছিলেন। সেই সময় তাঁকে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে যদি এমনটা হয়, তাহলে ড্রাইভিং লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হতে পারে। পরবর্তীকালে তাঁর লাইসেন্স সাসপেন্ড করেছিল আরটিও অফিস।

Advertisement

ঘটনা ২: মহেশতলা বাটা মোড়ের কাছে দ্রুতগতিতে আসা এক গাড়ির চালককে আটকান কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিস। তাঁর তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, এই চালককে আগেও একাধিকবার জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছে। তবুও তিনি শোধরাননি। ফলে সেই চালকের লাইসেন্সও বাতিল করার প্রস্তাব আরটিওতে পাঠানো হয় এবং তা কার্যকর করা হয়।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাজুড়ে নিয়ম ভেঙে গাড়ি চালানোর জন্য কড়া পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে প্রশাসন। গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জন চালকের লাইসেন্স হয় বাতিল, না হলে সাসপেন্ড করেছে জেলার তিনটি আরটিও অফিস। যার মধ্যে আলিপুর আরটিও অফিস একাই প্রায় ৩৫০ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে। এছাড়াও ডায়মন্ডহারবার এবং বারুইপুর আরটিও মিলিয়ে সেই সংখ্যা দেড়শোর মতো।
বিভিন্ন পুলিস জেলার ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, বাইক ও গাড়িচালকদের নানাভাবে সচেতন করার পরেও অনেকেই সেই সতর্কতাকে গ্রাহ্য করেন না। বিনা হেলমেটে বাইক চালানোকে তাঁরা গা-সওয়া করে নিয়েছেন। ওই অবস্থায় দ্রুতগতিতে বাইক ছোটানো, এমনকী ট্রাফিক সিগন্যাল ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার মতো নানা ঘটনা প্রায় রোজই ঘটছে। একবার ভুল করলে তাঁদের সতর্ক বা জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হলেও এমন কিছু  চালক রয়েছেন, যাঁদের কোনও কিছুতেই ভ্রুক্ষেপ নেই। তখন তাঁদের লাইসেন্স বাতিল বা সাসপেন্ড করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও উপায় থাকে না পুলিসের। যাঁদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাতিল অথবা সাসপেন্ড হয়েছে, তাঁদের ‘রিপিটেড অফেন্ডার্স’ বলেই দাবি করেছে পুলিস। এর বাইরেও এমন কিছু চালক রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে কাউকে ধাক্কা মারা অথবা মদ্যপ অবস্থায় র‌্যাশ ড্রাইভিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগ পাওয়ার পর পদক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে আরটিও।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ