Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাতে হাসপাতালে ভর্তি, সকালে বৃদ্ধার দেহ মিলল গেটের সামনে

রাতে হাসপাতালে ভর্তি, সকালে বৃদ্ধার দেহ মিলল গেটের সামনে
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: মঙ্গলবার রাতে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা হওয়ায় হাসপাতালে এসেছিলেন বৃদ্ধা। বুধবার সকালে হাসপাতালের গেটের সামনে মিলল সেই বৃদ্ধার মৃতদেহ। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার সাঁকরাইলে হাজি এস টি মল্লিক গ্রামীণ হাসপাতালে। মৃত বৃদ্ধার নাম কোলাপতি পাসি (৬৭)। তাঁর বাড়ি মানিকপুর এলাকায়। দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে সাঁকরাইল থানার পুলিস। কীভাবে বৃদ্ধার মৃত্যু হল এবং হাসপাতালের গেটের সামনে দেহ এল কীভাবে, তা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা স্বাস্থ্যবিভাগ। 
Advertisement
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ হাজি এস টি মল্লিক গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে বেশ কিছুটা দূরে ওই বৃদ্ধাকে রাস্তায় বসে পেটের যন্ত্রণায় কাতরাতে দেখেন স্থানীয়রা। স্থানীয় একটি ক্লাবের সদস্যরা তাঁকে টোটোতে করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষার পর কিছু ওষুধ দিয়ে ‘অবজারভেশন ওয়ার্ড’-এ রেখে দেন। রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বৃদ্ধা কিছুটা সুস্থ বোধ করায় বাড়ি চলে যেতে চান। কিন্তু চিকিৎসকেরা তাঁকে রাতটুকু হাসপাতালেই থাকার পরামর্শ দেন। এরমধ্যেই কোনওভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নজর এড়িয়ে তিনি বাইরে বেরিয়ে যান। এদিন সাতসকালে তাঁর দেহ হাসপাতালের গেটের কাছে পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছুটে আসে সাঁকরাইল থানার পুলিস। আসেন হাওড়া জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কিশলয় দত্তও।
এদিকে, বৃদ্ধার পরিবারের তরফে তাঁর ছেলে ও জামাইয়ের দাবি, বুধবার ভোরেও হাসপাতালে গিয়ে তাঁরা নাকি কোলাপতিদেবীকে বেডে শুয়ে থাকতে দেখেছিলেন। তাহলে তাঁর দেহ কীভাবে হাসপাতালের গেটের সামনে মিলল? জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘আচমকা হার্ট অ্যাটাকের কারণে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। দেহটি ইতিমধ্যে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। কখন তিনি হাসপাতাল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন, তা সিসিটিভিতে দেখা হচ্ছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে গঠন করা হয়েছে একটি তদন্ত কমিটি।’ 
আরও জানা গিয়েছে, ডেপুটি সিএমওএইচ পদমর্যাদার তিন আধিকারিককে নিয়ে তদন্ত কমিটি তৈরি করা হয়েছে। দ্রুত এই কমিটিকে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। তবে এই হাসপাতালের রোগীর পরিজন ও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, নিরাপত্তা কর্মী না থাকায় কোনও রোগী যখন তখন বেরিয়ে গেলেও দেখার কেউ থাকে না। হাসপাতাল এলাকায় স্থানীয় থানারই টহলদারি দেওয়ার কথা। কিন্তু পুলিসকে তা করতে দেখা যায় না বলে অভিযোগ। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ