নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কারও কথা শুনছে না পুলিস! মেয়র, মুখ্যমন্ত্রী, এমনকী কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশও কার্যকর করতে কোনও সদর্থক উদ্যোগ নিচ্ছে না তারা। পুলিসের বিরুদ্ধে সরাসরি এই অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হল হকার সংগ্রাম কমিটি। সোমবার সাংবাদিক বৈঠক করে তারা জানিয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত হয়েছে টাউন ভেন্ডিং কমিটি (টিভিসি)। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পিচ রাস্তার উপর কোথাও হকার বসবে না। বিষয়টি জানার পরও নিউ মার্কেট চত্বরে নিয়ম মেনে চলতে পুলিস কাউকে বাধ্য করছে না বলে অভিযোগ। ফলে কয়েকদিন যেতে না যেতে নিউ মার্কেট চত্বরে হকাররাজের পুরনো ছবিই ফিরে এসেছে। আইন মেনে হকার বসাতে পুলিস যাতে বাধ্য হয়, সেই দাবি নিয়ে আগামী ৭ মার্চ নিউ মার্কেট থানা ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন হকার সংগঠনের নেতারা।
Advertisement
এদিন বার্ট্রাম স্ট্রিটে সাংবাদিক বৈঠক করেন হকার সংগ্রাম কমিটির নেতা শক্তিমান ঘোষ এবং দেবাশিস দাস। তাঁদের দাবি, এখন হকারদের পুনর্বাসন এবং নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে ব্যবসা চালানোর আইনি স্বীকৃতি মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যত্রতত্র হকার নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিসকে নির্দেশ দিয়েছেন। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমও পুলিস কমিশনারকে এ বিষয়ে তৎপর হতে আবেদন করেছেন। কয়েকদিন সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। ফের বেআইনি হকারদের দখলে চলে গিয়েছে চাঁদনি চক, নিউ মার্কেটের বার্ট্রাম স্ট্রিট, হুমায়ুন প্লেস সহ বিভিন্ন রাস্তা। শক্তিমান ঘোষ বলেন, ‘আমরা কোনওদিন ভাবিনি যে এভাবে নিউ মার্কেটের রাস্তাঘাট খালি করা যাবে। রাজাবাজার, চাঁদনির মতো এলাকায়ও রাস্তার উপর থেকে বেআইনি হকারদের তুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন যে কে সেই অবস্থা। পুলিসই আইন মানছে না। আদালতের নির্দেশও কানে তুলছে না তারা।’ এ বিষয়ে কলকাতা পুলিসের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অভিযোগ থাকতেই পারে। লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখা হবে। হকারদের তরফে হাইকোর্টে অভিযোগ হলে আমাদের কাছে যে তথ্য রয়েছে, তা নিশ্চয়ই পেশ করব।’
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল ও ২০২৪ সালে সমীক্ষার ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভা হকারদের তালিকা তৈরি করেছে। সেই হিসেবে ২২০০-২৩০০ বৈধ হকার রয়েছেন নিউ মার্কেট এলাকায়। কিন্তু এর বাইরে ৫০০-৬০০ হকার পুলিসের মদতেই রাস্তায় বসে ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ সংগ্রাম কমিটির। সংগঠনের নেতা দেবাশিস দাস বলেন, ‘পুরসভার তালিকাভুক্ত হকারদের ডালার সামনে রাস্তার উপর জিনিসপত্র বিছিয়ে বেআইনিভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন কিছু হকার। তাঁদের বাঁচাতে পুলিস ফুটপাতের বৈধ হকারকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। থানায় আটকে রাখছে। মারধর করছে। পুলিসের এত ক্ষমতা হয়ে গিয়েছে যে তারা আদালতের নির্দেশও অমান্য করছে।’ হকার নেতাদের দাবি, নিউ মার্কেটের দেখাদেখি অন্যান্য এলাকায়ও এই প্রবণতা প্রকট হচ্ছে। তাই পুলিসের এই নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সাল ও ২০২৪ সালে সমীক্ষার ভিত্তিতে কলকাতা পুরসভা হকারদের তালিকা তৈরি করেছে। সেই হিসেবে ২২০০-২৩০০ বৈধ হকার রয়েছেন নিউ মার্কেট এলাকায়। কিন্তু এর বাইরে ৫০০-৬০০ হকার পুলিসের মদতেই রাস্তায় বসে ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ সংগ্রাম কমিটির। সংগঠনের নেতা দেবাশিস দাস বলেন, ‘পুরসভার তালিকাভুক্ত হকারদের ডালার সামনে রাস্তার উপর জিনিসপত্র বিছিয়ে বেআইনিভাবে ব্যবসা চালাচ্ছেন কিছু হকার। তাঁদের বাঁচাতে পুলিস ফুটপাতের বৈধ হকারকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। থানায় আটকে রাখছে। মারধর করছে। পুলিসের এত ক্ষমতা হয়ে গিয়েছে যে তারা আদালতের নির্দেশও অমান্য করছে।’ হকার নেতাদের দাবি, নিউ মার্কেটের দেখাদেখি অন্যান্য এলাকায়ও এই প্রবণতা প্রকট হচ্ছে। তাই পুলিসের এই নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করা হয়েছে।



