সংবাদদাতা, ঘাটাল: বিজেপিতে বেনো জল ঢুকতে বাধা দেওয়ায় বেধড়ক পিটুনি খেলেন আরএসএসের এক কর্মকর্তা। রবিবার রাতে ঘাটাল থানার বলরামপুরে বিজেপির কর্মীরা তাঁকে এতটাই মারধর করেন যে তাঁকে গুরুতর জখম অবস্থায় ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। বিজেপির জেলা সভাপতি তন্ময় দাস ওই গ্রামে একটি ‘গন্ডগোলের’ কথা স্বীকার করেছেন। কিন্তু ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও তিনি বিস্তারিত জানেন না। তন্ময়বাবু বলেন, আমি খোঁজ নিয়ে বলব। অন্যদিকে, আরএসএসের ঘাটাল খণ্ডের কার্যবাহক রাজেশ ভুক্তা বলেন, জখম ব্যক্তির নাম প্রসেনজিৎ কারক। তিনি আমাদের সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন। যাঁরা প্রসেনজিৎবাবুকে মারধর করেছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন কিছুদিন আগে পর্যন্ত তৃণমূল করতেন। সম্প্রতি তাঁরা বিজেপিতে যোগদান করেছেন। দলের মধ্যে ‘বেনোজল’ ঢোকা নিয়ে অনেক দিন ধরেই প্রসেনজিৎবাবু আপত্তি জানিয়ে আসছিলেন। রবিবার রাতে সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রসেনজিৎবাবুকে আদি ও নব্য বিজেপির সদস্যরা মারধর করেন। ঘাটাল থানার পুলিশ জানিয়েছে, এ নিয়ে এখনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ হলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মনশুকা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা একসময় সিপিএম এবং পরে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি ছিল। বিজেপির পুরোনো দিনের কর্মী এবং আরএসএসের সদস্যদের ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় সেই দৃশ্য অনেকটাই বদলেছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ওই সমস্ত এলাকা থেকে বিজেপি বেশ ভালো ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। আরএসএস নেতৃত্বের অভিযোগ, যেসব তৃণমূল নেতা কিছুদিন আগে পর্যন্ত বিজেপি ও আরএসএস কর্মকর্তাদের উপর নানাভাবে অত্যাচার করেছেন, মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছেন এবং তৃণমূল নেতা হিসেবে এলাকায় যাঁদের বিরুদ্ধে অনেক ‘কুকীর্তির’ অভিযোগ রয়েছে, বিজেপির কিছু স্থানীয় নেতা তাঁদেরকেই একে একে দলে ঢোকানোর উদ্যোগ নিচ্ছেন। সমাজে যাঁদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, উল্টে দুর্নীতিবাজ হিসেবে পরিচিতি রয়েছে, তাঁদের দলে নিলে বিজেপির ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। এই প্রতিবাদটাই প্রসেনজিৎবাবু বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে করে আসছিলেন। এনিয়ে তিনি দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছিলেন। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রসেনজিৎবাবুর এই প্রতিবাদ মেনে নিতে পারেননি বিজেপির ওই এলাকার নীচুতলার কর্মী ও নেতারা। রবিবার রাতে সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আদি ও নব্য বিজেপির কর্মীরা এক হয়ে প্রসেনজিৎবাবুকে বেধড়ক মারধর করেন। তিনি মাঠের দিকে ছুটে পালিয়ে গেলেও রেহাই পাননি। মাঠেও তাঁকে এলোপাথাড়ি মারধর করা হয়।