হে সার-রস-অভিজ্ঞে রসনে। তুমি সর্ব্বদা মধুর রস ভালবাস। হে জিহ্বে! ‘নারায়ণ’ নামক অমৃত তুমি নিরন্তর পান কর। সাধারণ ইক্ষু মধু প্রভৃতি মধুর রসসকল অন্তবিশিষ্ট আর এই ‘নারায়ণ নাম’ অমৃত, অনন্ত, অসীম, অপরিমিত, কখনও একে শেষ করতে পারবে না; রস কখনও বিস্বাদ হবে না। নিত্যই নব নব ভাবে এ রস আস্বাদন করতে পার্বে রস একটি বই দুটি নাই। সেই রসতম পরম পুরুষই ভিন্ন ভিন্ন ইন্দ্রিয়দ্বারে পৃথক্ পৃথক্ রূপে প্রতিভাত হন। সেই রসময় জিহ্বায় রসরপে, চক্ষুতে রূপ-রূপে, কর্ণে শব্দ-স্বরূপে, ত্বকে স্পর্শরূপে, নাসায় গন্ধরূপে অনুভূত হন। এক সৎ-চিৎ-আনন্দময় অমিত-রসময় পুরুষকে ইন্দ্রিয়গণ স্বতন্ত্র স্বতন্ত্রভাবে গ্রহণ করে;—গ্রাহ্য বস্তু একটি বই দুইটি নাই। ‘নারায়ণ’ নাম জপ কর্তে কর্তে সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে সেই সচ্চিদানন্দময় পুরুষকে আস্বাদন করতে সমর্থ হবে।
Advertisement
“নারায়ণ, নারায়ণ, নারায়ণ”।
শ্রীগর্গ বলেছিলেন—/ নারায়ণেতি মন্ত্রোঽস্তি বাগস্তি বশবর্ত্তিনী।/তথাপি নরকে ঘোরে পতন্তীত্যেতদদ্ভূতম্।।
‘নারায়ণ’ নামরূপ মন্ত্র ও বশবর্ত্তিনী জিহ্বাও আছে, তথাপি মানুষ যে ঘোর নরকে পতিত হয় এইটিই বড় আশ্চর্য্যের বিষয়।
সত্যি, এ খুবই আশ্চর্য্যের বিষয় আমরা আনন্দের জন্য জ্ঞানোদয় হবার পর থেকে প্রাণপণে চেষ্টা করি কিন্তু সে চেষ্টার ফলে পাই কি—দুঃখের পর দুঃখ, হাহাকারের উপর হাহাকার। এত সহজ সরল সুগম উপায় “নারায়ণ” নাম উচ্চারণ—তা করি না। কি হবে? কি হবে? কি গতি হবে?
‘নারায়ণ’ বল, শোন, পরমগতি হবে—যে গতি যোগিগণেরও দুর্লভ, যে গতি জ্ঞানিগণ বহু জন্ম জন্মান্তরে কঠোর সাধনায় লাভ করেন, মাত্র অনুক্ষণ রসনায় ‘নারায়ণ’ নামটি যত্ন করে ধরে রাখো, যেন কোনরূপে জিহ্বা হ’তে সরে না যান; ব্যাস্ তাহলেই চোখ বুজে ছুটলেও একবারে শ্রীবৈকুণ্ঠধামে পৌঁছে যাবে। শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী বিষ্ণুপার্ষদগণ তোমাকে বেষ্টন ক’রে নাম শোনাতে শোনাতে শ্রীভগবানের পাদমূলে উপস্থিত করবেনই করবেন।
‘নারায়ণ, নারায়ণ, নারায়ণ’। আচ্ছা তুমি যে নবধা ভক্তির কথা বল্লে তার মধ্যে যদি কেউ একটি মাত্র ধরে থাকেন—যেমন আমি কীর্ত্তন ভালবাসি, যদি কীর্ত্তনটিকেই ধ’রে থাকি তাহলে কৃপা লাভ হয়?
হাঁ, হয় বৈকি।
শ্রীবিষ্ণোঃ শ্রবণে পরীক্ষিদভবদ্ বৈয়াসকিঃ কীর্ত্তনে/ প্রহ্লাদঃ স্মরণে তদঙ্ঘ্রিভজনে লক্ষ্মীঃ পৃথুঃ পূজনে।/ অক্রুরস্ত্বভিবন্দনে কপিপতির্দাস্যে চ সখ্যেঽর্জ্জুনঃ/ সর্ব্বস্বাত্মনিবেদনে বলিরভূৎ কৃষ্ণাপ্তিরেষাং পরম্।।
রাজা পরীক্ষিতের শ্রীভগবানের লীলাগুণাদি শ্রবণে, শুকদেবের কীর্ত্তনে, প্রহ্লাদের স্মরণে, লক্ষ্মীর তাঁর চরণ ভজনে, পৃথুরাজের পূজায়, অক্রূরের বন্দনে হনুমানের দাস্যে, অর্জ্জুনের সখ্যে ও বলির সর্ব্বস্ব আত্মনিবেদনে ভগবৎপ্রাপ্তি হয়েছিল। একটি অবলম্বন করলেই অপরগুলি স্বতঃই আসে।
ভক্তির আরও লক্ষণ আছে?
অনেক—অনেক—
আচ্ছা, তুমি বল—।
“ভক্তিরস্য ভজনং তহিদামুত্রোপাধিনৈরাশ্যেনামুষ্মিন্ মনঃ কল্পনমেব”।
পরমপুরুষের উপাসনার নাম ভক্তি, ইহ ও পরলোক সম্বন্ধীয় সমস্ত ফল কামনা ত্যাগ করে শ্রীভগবানের মনের যে আরোপ দিবা-নিশি তাঁহার মনন, চিন্তা তাঁর নাম ভক্তি।
ভজন শব্দের অর্থ কি?
কোষ বলে উপাসনা, সেবা, পূজা, কায়মনোবাক্যের দ্বারা সতত তার সমীপে থেকে সেবা পূজা করার নামই প্রকৃত ভক্তি।
শ্রীগর্গ বলেছিলেন—/ নারায়ণেতি মন্ত্রোঽস্তি বাগস্তি বশবর্ত্তিনী।/তথাপি নরকে ঘোরে পতন্তীত্যেতদদ্ভূতম্।।
‘নারায়ণ’ নামরূপ মন্ত্র ও বশবর্ত্তিনী জিহ্বাও আছে, তথাপি মানুষ যে ঘোর নরকে পতিত হয় এইটিই বড় আশ্চর্য্যের বিষয়।
সত্যি, এ খুবই আশ্চর্য্যের বিষয় আমরা আনন্দের জন্য জ্ঞানোদয় হবার পর থেকে প্রাণপণে চেষ্টা করি কিন্তু সে চেষ্টার ফলে পাই কি—দুঃখের পর দুঃখ, হাহাকারের উপর হাহাকার। এত সহজ সরল সুগম উপায় “নারায়ণ” নাম উচ্চারণ—তা করি না। কি হবে? কি হবে? কি গতি হবে?
‘নারায়ণ’ বল, শোন, পরমগতি হবে—যে গতি যোগিগণেরও দুর্লভ, যে গতি জ্ঞানিগণ বহু জন্ম জন্মান্তরে কঠোর সাধনায় লাভ করেন, মাত্র অনুক্ষণ রসনায় ‘নারায়ণ’ নামটি যত্ন করে ধরে রাখো, যেন কোনরূপে জিহ্বা হ’তে সরে না যান; ব্যাস্ তাহলেই চোখ বুজে ছুটলেও একবারে শ্রীবৈকুণ্ঠধামে পৌঁছে যাবে। শঙ্খ-চক্র-গদা-পদ্মধারী বিষ্ণুপার্ষদগণ তোমাকে বেষ্টন ক’রে নাম শোনাতে শোনাতে শ্রীভগবানের পাদমূলে উপস্থিত করবেনই করবেন।
‘নারায়ণ, নারায়ণ, নারায়ণ’। আচ্ছা তুমি যে নবধা ভক্তির কথা বল্লে তার মধ্যে যদি কেউ একটি মাত্র ধরে থাকেন—যেমন আমি কীর্ত্তন ভালবাসি, যদি কীর্ত্তনটিকেই ধ’রে থাকি তাহলে কৃপা লাভ হয়?
হাঁ, হয় বৈকি।
শ্রীবিষ্ণোঃ শ্রবণে পরীক্ষিদভবদ্ বৈয়াসকিঃ কীর্ত্তনে/ প্রহ্লাদঃ স্মরণে তদঙ্ঘ্রিভজনে লক্ষ্মীঃ পৃথুঃ পূজনে।/ অক্রুরস্ত্বভিবন্দনে কপিপতির্দাস্যে চ সখ্যেঽর্জ্জুনঃ/ সর্ব্বস্বাত্মনিবেদনে বলিরভূৎ কৃষ্ণাপ্তিরেষাং পরম্।।
রাজা পরীক্ষিতের শ্রীভগবানের লীলাগুণাদি শ্রবণে, শুকদেবের কীর্ত্তনে, প্রহ্লাদের স্মরণে, লক্ষ্মীর তাঁর চরণ ভজনে, পৃথুরাজের পূজায়, অক্রূরের বন্দনে হনুমানের দাস্যে, অর্জ্জুনের সখ্যে ও বলির সর্ব্বস্ব আত্মনিবেদনে ভগবৎপ্রাপ্তি হয়েছিল। একটি অবলম্বন করলেই অপরগুলি স্বতঃই আসে।
ভক্তির আরও লক্ষণ আছে?
অনেক—অনেক—
আচ্ছা, তুমি বল—।
“ভক্তিরস্য ভজনং তহিদামুত্রোপাধিনৈরাশ্যেনামুষ্মিন্ মনঃ কল্পনমেব”।
পরমপুরুষের উপাসনার নাম ভক্তি, ইহ ও পরলোক সম্বন্ধীয় সমস্ত ফল কামনা ত্যাগ করে শ্রীভগবানের মনের যে আরোপ দিবা-নিশি তাঁহার মনন, চিন্তা তাঁর নাম ভক্তি।
ভজন শব্দের অর্থ কি?
কোষ বলে উপাসনা, সেবা, পূজা, কায়মনোবাক্যের দ্বারা সতত তার সমীপে থেকে সেবা পূজা করার নামই প্রকৃত ভক্তি।
শ্রীগুরুপ্রকাশন থেকে প্রকাশিত ‘শ্রীওঙ্কারনাথ-রচনাবলী’ (৩য়) থেকে


