


নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: তমলুক থানার অনন্তপুরে নাকা চেকিং চলাকালীন ময়নার বিজেপি প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৭ লক্ষ ৪৮ হাজার ৮৭০ টাকা এবং ১৫৭ গ্রাম সোনা বাজেয়াপ্ত করা হয়। তমলুক থানার ওষুধপুর গ্রামের এক ব্যবসায়ী একটি গাড়িতে ওই নগদ টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় অনন্তপুরে স্ট্যাটিক সার্ভিল্যান্স টিম গাড়িতে তল্লাশি চালায়। গাড়ি থেকে প্রচুর নগদ টাকা ও সোনার গয়না উদ্ধার হয়। চেকিং চলাকালীন ম্যাজিস্ট্রেট এবং আয়কর দপ্তরের এক কর্মী উপস্থিত ছিলেন। আপাতত টাকা ও গয়না আয়কর দপ্তরের হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে। ব্যবসায়ীর সোনার দোকান রয়েছে। ওই ব্যবসায়ীর ইনকাম ট্যাক্সের যাবতীয় ফাইল চেক করা হচ্ছে। নগদ টাকা ও সোনা বৈধ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত রায় বলেন, ওই ব্যবসায়ী বিজেপির প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ। ব্যবসায়ী নিজেও বিজেপি করেন। নির্বাচন কমিশনের কাছে এই টাকার উৎস এবং বৈধতা নিয়ে তদন্ত দাবি করছি।
এব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানার জন্য ওই বিজেপি প্রার্থীকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপেরও জবাব দেননি। বিজেপির ময়না বিধানসভার কনভেনর গৌতম গুরু বলেন, ওই ব্যবসায়ীকে আমরা চিনি না। শাসকদলের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ করা হচ্ছে।
ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের দিন থেকেই পূর্ব মেদিনীপুরে জেলায় ৪৮টি জায়গায় নাকা পয়েন্ট করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মূলত নগদ অর্থ, দামি উপহার কিংবা অস্ত্রশস্ত্র এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে কি না, তা দেখা হচ্ছে। তমলুক-পাঁশকুড়া রাজ্য সড়কে অনন্তপুর গার্লস হাইস্কুলের পাশেও নাকা পয়েন্ট হয়েছে। সেখানে একজন ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গাড়ি, বাইক চেকিং করা হচ্ছে। সঙ্গে আধাসেনা রয়েছে। ওই জায়গাটি সিসি ক্যামেরায় নজরদারির মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি ভিডিয়োগ্রাফিও হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ একটি প্রাইভেট গাড়ি চেকিং করার সময় প্রচুর নগদ টাকা বেরিয়ে আসে। সেইসঙ্গে অনেক সোনার গয়নাও পাওয়া যায়। দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট সেসব সিজ করেন। তারপর ইনকাম ট্যাক্সের হাতে তুলে দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, টাকার পরিমাণ ১০লক্ষ কিংবা তার বেশি হলে সেটা আয়কর বিভাগকে হস্তান্তর করতে হয়। তারা আয়কর রিটার্ন সহ যাবতীয় নথি যাচাই করবে। হিসাব বর্হিভূত টাকা হলে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে এফআইআর হবে।
পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ইলেকশন) বৈভব চৌধুরী বলেন, তমলুক থানার অনন্তপুরে নাকা চেকিং চলাকালীন এসএসটি টিম নগদ অর্থ ও অলঙ্কার সিজ করেছে। সেসব আয়কর বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ঘটনার সময় আয়কর বিভাগের কর্মীও ছিলেন।