


ফিরদৌস হাসান, শ্রীনগর: জন্নত-ই- কাশ্মীর। ভারতের মুকুটের এই ‘তাজ’ সফর যে কোনও মানুষের কাছেই সযত্নলালিত স্বপ্নপূরণের মতো। আর উপত্যকায় গিয়ে সেখানকার স্পেশাল ডিশ চেখে না দেখলে ভূস্বর্গ সফর পূর্ণতা পায় না। তাদের যেমন বাহারি নাম, তেমনই রকমারি স্বাদ। কী নেই সেই মেনুতে! রোগন জোশ, ইয়াখনি, সাওয়ারমা, চিকেন আলফাম হোক বা ওয়াজবান। ভোজন রসিকদের কাছে রীতিমতো জনপ্রিয় এই পদগুলি। তালিকায় রয়েছে রিস্টা, গুস্তাবা এবং তাবাক মাজের মতো মাংসের বিভিন্ন পদও। তবে সম্প্রতি কাশ্মীরের এই সমস্ত আমিষ পদেই এখন পর্যটক থেকে শুরু করে স্থানীয়দের প্রবল অনীহা।
কেন? ক’দিন আগেই কাশ্মীরের রেস্তরাঁয় পচা মাংস সবরাহের একটি চক্রের হদিশ পায় প্রশাসন। সেই খবর চাউর হতেই উপত্যকার বিভিন্ন খাবারের দোকানে পর্যটকরা মুখ ফিরিয়েছেন আমিষ পদ থেকে। বরং অর্ডার করছেন নিরামিষ সব পদ। ইসাক আহমেদ ভাট নামে এক রেস্তরাঁ মালিক বলেন, প্রতিদিন সাওয়ারমা, চিকেন আলফাম সহ মাটনের নানা পদের ডজনখানেক অর্ডার পেতাম। চিকেন আলফামের চাহিদা ছিল সবথেকে বেশি। অথচ গত এক সপ্তাহ ধরে এর অর্ডারই পাচ্ছি না। পর্যটকরা সাধারণ ডাল-ভাত বা শাহি পনির অর্ডার করছেন। আমিষ খাবারে আগ্রহ কমে যাওয়ায় কপালে ভাঁজ পড়েছে ইসাক সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরও। কাশ্মীরের রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ ফিরোজ জানান, বহু রেস্তরাঁ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ছে। বেশিরভাগ মানুষই এখন নিরামিষ খাবার ও চা-কফি অর্ডার করছেন।’
বড় বড় রেস্তরাঁ লোকসানের মুখে পড়লেও মুখে হাসি ফুটেছে অপেক্ষাকৃত ছোট নিরামিষ খাবারের দোকান মালিকদের মুখে। তাদের ব্যবসা হঠাৎ করে অনেকটা বেড়েছে। টাংমার্গের ধাবামালিক বসজারাত আহমেদ ভাট বলেন, ‘বহু মানুষই আমাদের খাবারের প্রশংসা করছেন। এখানে আগে মূলত স্থানীয়রাই অর্ডার দিতেন। গত এক সপ্তাহ ধরে পর্যটকরাও আসছেন। তাঁদের মধ্যে প্রায় সকলেই ডাল-চাউল, লস্সি, শাহি পনির এবং শেষ পাতে নানা ধরনের মিষ্টি খাবার অর্ডার দিচ্ছেন।’
এদিকে, পচা মাংসের সরবরাহ রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে জম্মু ও কাশ্মীর হোটেল ও রেস্তরাঁ অ্যাসোসিয়েশন। নামি ব্র্যান্ড ছাড়া অন্য যে যে ব্র্যান্ডের মাংস সংরক্ষিত খাবার হিসেবে (ফ্রোজেন মিট) কাশ্মীরে ঢুকছে, তার উপরেও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যে মাংস রেস্তরাঁয় ব্যবহার করা হবে তা টাটকা কি না, সে ব্যাপারে লখনপুরের গবেষণাগারে পরীক্ষারও দাবি তোলা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, পর্যটক এবং স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত যে কোনও সমস্যা রুখতে তারা বদ্ধপরিকর।