দুর্গাপুরে অভিজাত হোটেলের রান্নাঘরে পচা মাছ-মাংস, তাজ্জব আধিকারিকরা
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বাইরে অভিজাত সাজসজ্জা, মেনু কার্ডে বাহারি পদের ছড়াছড়ি, খাবারের দামও ভালোই। কিন্তু রান্নাঘরে ঢুকলেই ছবিটা পালটে যায়। কোথাও ফ্রিজের ভিতর থরে থরে মজুত পচা মাছ-মাংস, ছাতা পড়া পনির ও মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি। আবার কোথাও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশেই রান্না চলছে। শুক্রবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারে একাধিক নামী হোটেল ও রেস্তরাঁয় খাদ্যসুরক্ষা দপ্তর, প্রশাসন ও পুরসভার সম্মিলিত অভিযানে এমনই ছবি প্রকাশ্যে এল।

Advertisement

খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিক শুভম ঘোষ বলেন, একাধিক রেস্তরাঁর ফ্রিজে কয়েকদিনের পুরনো পচা মাছ ও প্রক্রিয়াজাত মাংস মজুত ছিল। সেগুলির গায়ে মেয়াদের উল্লেখ ছিল না। পেস্ট কন্ট্রোল করানো হয়েছে দাবি করলেও তার সপক্ষে কোনো নথি দেখাতে পারেনি রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষ। আরও উদ্বেগজনক বিষয়, খোলা ডাস্টবিনের পাশে বাসনপত্র ধোয়া হচ্ছিল। এমন পরিবেশে খাবার প্রস্তুত হলে তা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক হতে পারে।
শহরের বিভিন্ন অভিজাত হোটেলে খাবারের গুণমান, সংরক্ষণ পদ্ধতি এবং স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করতেই এদিন আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। তল্লাশিতে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হিমঘর ও ফ্রিজ থেকে দীর্ঘদিনের বাসি মাছ, পচা মাংস ও মেয়াদউত্তীর্ণ খাদ্যসামগ্রী উদ্ধার হয়। সেগুলি অবিলম্বে নষ্ট করে দেন আধিকারিকরা। রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্নতা নিয়েও তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহারের অভিযোগে কয়েকটি হোটেলকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।
অভিযানের পর ওই সমস্ত হোটেল ও রেস্তরাঁয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে সতর্কতামূলক নোটিস দেওয়া হয়। কয়েকটি ক্ষেত্রে পুরসভার তরফে জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে। আগামী দিনেও শহরের বিভিন্ন খাবারের দোকানে ধারাবাহিক নজরদারি ও আকস্মিক তল্লাশি চালানো হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।  হোটেলে খাদ্যসুরক্ষা দপ্তরের অভিযান। নিজস্ব চিত্র