নিজস্ব প্রতিনিধি, মুম্বই: গুগলে ভারতীয় ক্রিকেটের সুপারফ্যান টাইপ করলেই ভেসে ওঠে সুধীর কুমার চৌধুরির নাম। ন্যাড়া মাথায় জাতীয় পতাকা আঁকা। শরীরেও গেরুয়া, সাদা, সবুজের সমাহার। বুকে লেখা তেন্ডুলকর। তার নীচে ‘১০’। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তেই হোক না কেন ভারতের হয়ে গলা ফাটাতে গ্যালারিতে তিনি হাজির। চলতি বিশ্বকাপে সুধীরের মতোই এক পাগলপারা ফ্যানের দেখা মিলেছে। নাম রনিত সাহু। ওড়িশার সম্বলপুরের বাসিন্দা। তবে গত দেড় মাস কখনও মুম্বই, কখনও চেন্নাই, কখনও আবার কলকাতা— সুর্যকুমারদের সঙ্গে একের পর এক শহর পরিক্রমা করেছেন তিনি। তবে কখনও কারও থেকে আর্থিক অনুদান নেননি। নিতে চানও না!
রনিত পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী। মাসে ৫০-৫৫ হাজার আয়। এর সবটাই এখন জাতীয় দলের সঙ্গে ঘোরাঘুরিতে লেগে যাচ্ছে। টি-২০ বিশ্বকাপেই যেমন দেড় লক্ষের বেশি খরচা হয়ে গিয়েছে। পুরোটাই নিখাদ ভালোবাসা, তাই কারও কাছে সাহায্য বা স্পনসরের জন্য বলেননি। কিন্তু বাড়িতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বাবা, মায়ের ইচ্ছা ছেলে এবার সংসারী হোক। বিয়ে-শাদি করুক। বড়দা, বৌদিরও সেটাই ইচ্ছে। একটা দুটো ম্যাচ দেখতে যাওয়ায় তাদের আপত্তি নেই। দেড় মাস ধরে ঘুরে ঘুরে ম্যাচ দেখায় তাঁদের প্রবল আপত্তি। রনিত এখন তাই বাড়ির লোকজনদের কিছু জানিয়েই বেরিয়ে পড়েন খেলা দেখতে। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের অসহায়তার সুরে রনিত বলছিলেন, ‘কী যে করব বুঝতে পারছি না! নিজে ক্রিকেট খেলতাম অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায় পর্যন্ত। এখনও ক্যাম্বিস বলে নেমে পড়ি। ক্রিকেটই আমার একমাত্র ভালোবাসা। গত তিন মাস ধরে জাতীয় দলের ম্যাচ দেখছি মাঠে বসে। খুব তৃপ্তি পাচ্ছি। অনেকের সঙ্গে আলাপ হচ্ছে। ভালো লাগছে। কিন্তু বাড়িতে অশান্তি। এটাই সমস্যা।’
রনিতের প্রিয় ক্রিকেটার রোহিত শর্মা। টেস্ট এবং টি-২০ থেকে অবসর নিয়েছেন ইতিমধ্যে। তবে মহাতারকার সঙ্গে দেখা করার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে নতুন সুপারফ্যানের। হিটম্যানের পরিচিত এক অনুরাগীর মাধ্যমে সেই বার্তাও পাঠিয়েছেন। যদি এক ঝলক দেখা হয় রোহিতের সঙ্গে, যদি কয়েক সেকেন্ড কথা বলা যায়। সেই আশাতে প্রহর গুনছেন রনিত। মুম্বই যে স্বপ্নপূরণেরই শহর!