পর্তুগাল-২ : ক্রোয়েশিয়া-১
(রোনাল্ডো, র্যামোস) (পেরিসিচ)
পর্তুগাল-২ : ক্রোয়েশিয়া-১
(রোনাল্ডো, র্যামোস) (পেরিসিচ)
রঞ্জন চৌধুরি: পেনাল্টি স্পটে বল বসানোর পর পিছিয়ে গেলেন কয়েক পা। ক্যামেরার জুমে সিআরসেভেনের মুখ। চকচকে ট্রায়োন্ডা বলের দিকে দৃষ্টি স্থির। লম্বা দম নিয়ে এগলেন রোনাল্ডো। বাকিটা ইতিহাস। জাল কাঁপিয়ে কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে ছোটা শুরু। তারপর সেই বিখ্যাত সিউউউউ....সেলিব্রেশনে অদৃশ্য হুংকার। ওহে, এটা পর্তুগালের কামব্যাক। বাকিরা সাবধান। শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ ব্যবধানে বশ মানিয়ে বিশ্বকাপের প্রিকোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছে গেল পর্তুগাল। ইউসেবিওর দেশের সামনে এবার স্পেন। ভারতীয় সময় সোমবার মাঝরাতে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো বনাম লামিনে ইয়ামাল। দ্বৈরথের দুন্দুভি বেজে গেল টরন্টোতেই। আট বছর আগে রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্যায়ে স্প্যানিশ আর্মাডার সামনাসামনি হয়েছিল পর্তুগাল। সেদিন দুরন্ত হ্যাটট্রিকে দেশের মান বাঁচিয়েছিল রোনাল্ডো। কেরিয়ারের গোধূলিতে তাঁর দিকেই তাকিয়ে গোটা পর্তুগাল।
ক্রোটদের বিরুদ্ধে ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। তাঁর ঝুলিতে নেভেস, ভিতিনহা, নেটো, ব্রুনো ফার্নান্ডেজের মতো অস্ত্র। মাঝমাঠ দখল করে শুরুতেই ধাক্কা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মার্তিনেজের। ৩০ মিনিটে গনসালো র্যামোস চমৎকার মাইনাস করেছিল। রোনাল্ডো চেষ্টা করেও পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ। হাফ ডজন কর্নারও বিফলে গেল। অন্যদিকে লুজ বলের প্রতীক্ষায় ছিল মডরিচ। ক্রোয়েশিয়া প্রতি মুহূর্তে বুঝিয়ে দিল, জমাট রক্ষণে দাঁত ফোটানো এত সহজ নয়।
বিরতির পর ম্যাচটা জমিয়ে দিল ডালিচের দল। ৫৩ মিনিটে ডানদিক থেকে অনবদ্য সেন্টার স্ট্যানিসিচের। দেখেশুনে বল রিসিভ করে বাঁ পায়ের জমি ঘেঁষা শটে জাল কাঁপায় পেরিসিচ (১-০)। এই সময় কাতার বিশ্বকাপের কথা নিশ্চয়ই মনে পড়ছিল পর্তুগাল ভক্তদের। ৪ বছর আগে হেভিওয়েট ব্রাজিলকে ছিটকে দিয়ে সেমি-ফাইনালে পৌঁছেছিল ক্রোয়েশিয়া। রোনাল্ডো, নেটোদের অবস্থা তেমন হবে না তো? এরমধ্যেই ৬১ মিনিটে রোনাল্ডোর গোল অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। নেটোর প্রায় ২৫ গজের ওভারহেড লব বাঁ পায়ে আঁকশির মতো নামিয়ে নিয়েছিল রোনাল্ডো। ডান চেটোর নিখুঁত চাঁটায় লক্ষ্যভেদ হলেও তা বাতিল হয়। তবে গোল না হলেও ছবির মতো মুহূর্তটি ম্যাচের অন্যতম সেরা। স্প্রিং দেওয়া পুতুলের মতো ছিটকে উঠে রোনাল্ডোর দুরন্ত রিসিভ মনে থাকবে অনেকদিন। এর ৭ মিনিট পরেই ১-১। পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরাল পর্তুগিজ মহাতারকা। বিশ্বকাপের নক-আউটে রোনাল্ডোর প্রথম গোল। ৪১ বছর ১৪৭ দিনে নতুন কৃতিত্ব স্পর্শ করলেন তিনি। সবচেয়ে বেশি বয়সের ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে জাল কাঁপালেন রোনাল্ডো। এদিনের পর বিশ্বকাপ ও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে তাঁর গোলের সংখ্যা ২৫। তবে রোনাল্ডোকে ৮০ মিনিটে তুলে নেন কোচ মার্তিনেজ। এরপর সুসিচের গোলও অফসাইডের কারণে বাতিল হয়। শেষ পর্যন্ত সংযোজিত সময়ে সুপার সাব গনসালো র্যামোস দুরন্ত হেডেও রোনাল্ডোর ছায়া (২-১)। মুহূর্তের অসাবধানতার খেসারত দিল ক্রোয়েশিয়া রক্ষণ। শেষ মুহূর্তে তৈরি হয় চরম বিতর্ক। ক্রোয়েশিয়া সমতা ফেরালেও প্রযুক্তির সাহায্যে তা বাতিল করেন রেফারি। ম্যাচের পর টরন্টোর মাঠে আবেগঘন পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেরিয়ারে শেষ বিশ্বকাপ খেলে ফেললেন লুকা মডরিচ। বিদায়বেলায় প্রাক্তন সতীর্থকে শুভেচ্ছা জানালেন রোনাল্ডো। প্রয়াত সতীর্থ ডিয়েগো জোতাকেও ভোলেননি কিংবদন্তি। জোতার ২১ নম্বর জার্সি পরে মাঠ প্রদক্ষিণের সময় অনেকেরই চোখের কোণ চিকচিকে।