পর্তুগাল-০ : কলম্বিয়া-০
পর্তুগাল-০ : কলম্বিয়া-০
দেবজিৎ ঘোষ: ব্লকবাস্টার দ্বৈরথ হতেই পারত। তবে আপাতত তা হচ্ছে না। রবিবার রবার্তো মার্তিনেজ ব্রিগেড কলম্বিয়াকে বশ মানাতে পারলে শেষ আটে মেসি-রোনাল্ডো ডুয়েল দেখার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বিধি বাম। নির্বিষ ফুটবলে ড্র করল ইউসেবিওর দেশ। অনেকের মনে হতে পারে, কিছুটা ইচ্ছা করেই নিজেদের লুকিয়ে রাখল পর্তুগাল। হয়তো দুরন্ত ফর্মে থাকা আর্জেন্তিনার মুখোমুখি হতে চায় না তারা। বরং ম্যাচ ড্র হলে সুবিধা। সাপও মরবে, লাঠিও ভাঙবে না। এমন উদাহরণ নেহাত কম নয়। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ মনে পড়ছে। ডাচদের টোটাল ফুটবল তখন ঝড় তুলেছে। গ্রুপের শেষ ম্যাচ হেরে পূর্ব জার্মানিকে সেদিকে ঠেলে দিয়েছিলেন বেকেনবাওয়াররা। তবে সবই জল্পনা। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, পর্তুগালের মান বাঁচাল গোলরক্ষক কোস্তা। অন্তত সাতটি ক্ষেত্রে দক্ষতার তুঙ্গে পৌঁছে নিশ্চিত গোল সেভ করেছে। ব্যক্তিগত মত, কলম্বিয়া কড়া বার্তা দিয়ে গেল পর্তুগালকে। অবিলম্বে সতর্ক না হলে দুর্ভোগ আছে। নক-আউটে এবার পর্তুগালের সামনে ক্রোয়েশিয়া। ভুললে চলবে না লুকা মডরিচরা ২০১৮-র ফাইনালিস্ট।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বয়স এখন ৪১। ধরে নেওয়া যায় এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। বিদায়বেলাতেও অনুরাগীদের নজর সিআরসেভেনের দিকে। প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে চান সবাই। আগের ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিরুদ্ধে জোড়া গোলের পর পর্তুগিজ নায়ককে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল তুঙ্গে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মেসির দুরন্ত লক্ষ্যভেদের দিনে গোল পেলেন না রোনাল্ডো। কলম্বিয়া রক্ষণ রোনাল্ডোকে এক ইঞ্চিও স্পেস দেয়নি। একটি ক্ষেত্রে দূরপাল্লার শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন কোচ মার্তিনেজ। মাঝমাঠে ভিতিনহা, নেভেস, নেটো, ব্রুনো ফার্নান্ডেজের মতো ফুটবলার তাঁর সম্পদ। কাগজে কলমে শক্তিশালী স্কোয়াড। কিন্তু পারফরম্যান্সে তার প্রতিফলন কোথায়? সেই স্পার্ক উধাও। কিছুটা নজর কাড়ছিলেন হোয়াও ফেলিক্স ও ভিতিনহা। অদ্ভুতভাবে দ্বিতীয়ার্ধে তাদের তুলে নিলেন কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। অন্যদিকে, হামেস রডরিগেজ, ডিয়াজ, আরিয়াসরা প্রেসিং ফুটবলে দক্ষ। দূরপাল্লার শটে একাধিকবার কোস্তার পরীক্ষা নিল তারা। নিজের দিনে যে কোনো প্রতিপক্ষের ঘুম কেড়ে নিতে পারে কলম্বিয়া।