নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এসআইআর প্রক্রিয়া যত এগচ্ছে, রাজ্য প্রশাসন ও কমিশনের সংঘাত ততই বাড়ছে। এবার তিনজন রোল অবজার্ভারের বদলি সংক্রান্ত রাজ্যের নির্দেশিকা বাতিল করে দিল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিল তৃণমূল। তাদের পক্ষ থেকে সাফ বলা হয়েছে, কমিশন যদি সঠিকভাবে না চলে, তাহলে আদালতেই আবার দেখা হবে।
গত ডিসেম্বরের ১ তারিখ বিজ্ঞপ্তি জারি করে রোল অবজার্ভার অশ্বীনি কুমারকে বদলির নির্দেশ দেয় রাজ্য। এছাড়াও, চলতি বছরের ২০ ও ২১ জানুয়ারি রোল অবজার্ভার রণধীর কুমার এবং স্মিতা পান্ডেকে বদলি করে রাজ্য। রাজ্যের সেই নির্দেশিকাই বাতিল করে দিয়েছে কমিশন। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি দিয়ে কমিশন জানিয়েছে, এই রোল অবজার্ভাররা ডেপুটেশনে কমিশনের কর্মী হিসেবে নিযুক্ত। তাই কমিশনকে না জানিয়ে রাজ্য এই আধিকারিকদের বদলি করতে পারে না। এক্ষেত্রে কমিশনকে না জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেই তা বাতিল করা হচ্ছে। এই ঘটনার পর রাজ্য ও কমিশনের সংঘাত বাড়তি মাত্রা পেল বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ, এর আগে ভোটার তালিকায় গরমিলে অভিযুক্ত চার ইআরও এবং এইআরও’র বিরুদ্ধে কমিশনের নির্দেশ কার্যকর না করায় মুখ্যসচিবকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেই চাপানউতোরের মধ্যেই রাজ্যের জারি করা নির্দেশিকা বাতিল করল কমিশন। এছাড়া, কমিশন নির্দেশ দিয়েছিল, ২৬ জানুয়ারির মধ্যে শুনানির সমস্ত তথ্য ডিইওদের জানাতে হবে সিইও অফিসে। কিন্তু ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সেই তথ্য জমা পড়েনি বলে খবর।
এদিকে, মঙ্গলবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি তুলে দেয় তৃণমূলের এক প্রতিনিধি দল। সাংসদ পার্থ ভৌমিক, মহুয়া মৈত্র, দোলা সেন, বাপি হালদার ও রাজ্যের মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা দেখা করেন নির্বাচনি আধিকারিকের সঙ্গে। তাঁদের বক্তব্য, লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা যৌক্তিক অসংগতির তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছে নির্বাচন কমিশন। সাধারণ মানুষের কথা কমিশন ভাবছে না। আর মাইক্রো অবজার্ভারদের হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ পাঠানো হচ্ছে। এভাবে হোয়াটসঅ্যাপে নির্দেশ কমিশন পাঠাতে পারে না। ওই নির্দেশ কমিশনকে প্রত্যাহার করতে হবে বলেও দাবি করেন তাঁরা। না হলে কমিশনের সঙ্গে আদালতেই দেখা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।
অন্যদিকে, এসআইআর ইস্যুতে নতুন মামলা দায়ের হল কলকাতা হাইকোর্টে। মঙ্গলবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলাকারী দাবি করেন, কেন এই এসআইআর হচ্ছে, তার কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি কমিশন। এসআইআর করতে গেলে নির্দিষ্ট কারণ দর্শাতে হয়। সেই তথ্য বা নথি কোথায়? এর আগে তথ্য জানার অধিকার আইনে এ বিষয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি। আরটিআই কর্তৃপক্ষ কমিশনকে সমস্ত তথ্য দেওয়ার জন্য বললেও কমিশন কিছুই দেয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন বিচারপতি। ৬ ফেব্রুয়ারি শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, চার ইআরও-এইআরও নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থাকার বিষয় জানিয়ে কমিশনকে চিঠি দিল নবান্ন। আরও একটি চিঠিতে বসিরহাটের বিডিওর বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগও কার্যত উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে রাজ্যর তরফে।