মুল্লানপুর: ক্যাচ ফেলা মানেই ম্যাচ ফেলা! ক্রিকেটের চালু প্রবাদ এটাই। শুক্রবার আইপিএলের এলিমিনেটরে সেটাই প্রমাণ করল গুজরাত টাইটানস। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের কাছে ২০ রানে হেরে গেলেন শুভমান গিলরা। ব্যর্থ হল ব্যাট হাতে সাই সুদর্শনের লড়াই। চলতি মরশুমে দারুণ ছন্দে ছিলেন তিনি। এদিনও গুজরাতকে একার কাঁধে টানলেন সুদর্শন। কিন্তু ৮০ রান করেও দলের বিদায় আটকাতে পারলেন না তিনি। প্রথমে ব্যাট করে মুম্বই ৫ উইকেটে তোলে ২২৮ রান। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৮ রানে থামে গুজরাত। সৌজন্যে তাদের জঘন্য ফিল্ডিং। রোহিত শর্মার দু’টো ক্যাচ ফেলার পরিণতি হাতেনাতে টের পেল গুজরাত টাইটান্স। দু-দু’বার জীবনলাভের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৫০ বলে রোহিত করে যান ৮১। মারেন ৯টি চার ও ৪টি ছক্কা।
রোহিত ও সূর্যকুমার যাদব যখন ব্যাট করছিলেন, মনে হচ্ছিল, আড়াইশোর কাছাকাছি পৌঁছে যাবে মুম্বইয়ের স্কোর। রায়ান রিকলটনের জায়গায় ওপেন করতে আসা জনি বেয়ারস্টোই গড়ে দেন বড় ইনিংসের ভিত। এবারের আসরে প্রথমবার নেমে ২২ বলে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে তিনি করেন ঝোড়ো ৪৭। অবশ্য বেয়ারস্টোর ক্যাচও পড়েছিল। ফেলেছিলেন সেই কুসল মেন্ডিস। পাওয়ার প্লে’তে বিনা উইকেটে ৭৯ তুলে ফেলে মুম্বই।
প্রথম উইকেটে শেষ পর্যন্ত ওঠে ৮৪। বেয়ারস্টো ফেরার পর দ্বিতীয় উইকেটে সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে রোহিত ৩৪ বলে যোগ করেন ৫৪। শতরান নিশ্চিতই মনে হচ্ছিল হিটম্যানের। কিন্তু প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার স্লোয়ারে ক্যাচ তোলেন তিনি। এবার কোনওরকম ভুল করেননি রশিদ খান। অবশ্য রোহিতের আগেই ডাগ আউটে ফিরে গিয়েছিলেন সূর্যকুমার (৩৩)। এই আসরে ৬৭৩ রান হয়ে গেল তাঁর। মিডল অর্ডারে তিলক ভার্মাও শুরু থেকেই চালিয়ে খেলতে থাকেন। কিন্তু ২৫ রানের মাথায় মন্থর ডেলিভারিতে ঠকে যান তিনি। বোলার মহম্মদ সিরাজ। নমন ধীরও (৯) বেশিক্ষণ থাকেননি। আচমকা মন্থর হয়ে যায় রানের গতি। তবে শেষদিকে ঝড় তোলেন মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর মারমুখী মেজাজের মুখে শেষ ওভারে জেরাল্ড কোয়েৎজি দেন ২২ রান। তাঁকে তিনটি ছক্কা মারেন হার্দিক (অপরাজিত ২২)। সবমিলিয়ে তিন ওভারে কোয়েৎজি খরচ করেন ৫১ রান। গুজরাতের হয়ে উইকেট ভাগ করে নেন সাই কিশোর (২-৪২), প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা (২-৫৩) ও মহম্মদ সিরাজ (১-৩৭)।
আইপিএলের ইতিহাসে এর আগে ১৭ বার দুশোর বেশি রান তুলেছিল মুম্বই। আর প্রতিবারই ম্যাচ জেতে তারা। এদিনের ২২৮ প্লে-অফে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান। পাঁচবারের ট্রফিজয়ীরা মারে ১৭টি ছক্কা। ফলে গুজরাতের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তার উপর বাটলার নেই। আর ক্যাপ্টেন শুভমান গিল ফেরেন মাত্র ১ রানে। তাঁকে এলবিডব্লু করেন ট্রেন্ট বোল্ট। অরেঞ্জ ক্যাপের মালিক সাই সুদর্শন অবশ্য খেলেছেন। তিনে নামা কুসল মেন্ডিস অবিশ্বাস্যভাবে হিট উইকেট হলেন (২০)। ওপেনার সাই সুদর্শনের সঙ্গে ওয়াশিংটন সুন্দরের জুটি আশার আলো দেখিয়েছিল। ১৫১ রানে ভাঙে তাদের পার্টনারশিপ। সুন্দর ফেরেন ৪৮ রানে। এরপর সুদর্শন (৮০) আউট হতেই গুজরাতের সমস্ত লড়াই শেষ। ২০৮ রানে থেমে যায় তাদের ইনিংস।