নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অস্তমিত সূর্যের মতো বিদায় বেলায় সোনালি আভা ছড়াচ্ছেন রোহিত শর্মা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে একটি সেঞ্চুরি সহ করেছেন ২০২ রান। ছিনিয়ে নিয়েছেন সিরিজ সেরার পুরস্কার। সাত মাস পর আন্তর্জাতিক ম্যাচে ফেরা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা উঁকিঝুঁকি মারছিল, তা স্ট্রেট ড্রাইভে পাঠিয়ে দিয়েছেন মাঠের বাইরে। সেই সঙ্গে ২০২৭ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা জোরালো করেছেন হিটম্যান।
সিডনিতে নিয়মরক্ষার ম্যাচে অপরাজিত ১২১ রানের ইনিংসে অনেক সমালোচনার জবাব দিয়েছেন রোহিত। বিসিসিআই টিভিতে তিনি বলেছেন, ‘যবে থেকে খেলছি, কোনও সিরিজের প্রস্তুতির জন্য চার-পাঁচ মাস সময় পাইনি। এবার তাই সুযোগের সদ্ব্যবহারে মরিয়া ছিলাম। নিজের মতো করে প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল লক্ষ্য। আর সেটা কাজে লেগেছে। বাকি ক্রিকেট কেরিয়ারে কী করা দরকার, তার আন্দাজও পেয়েছি।’ নিজের সেঞ্চুরি ও বিরাট কোহলির সঙ্গে ১৬৮ রানের জুটি নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে বরাবরই পছন্দ করি। সেখানে শতরান পাওয়া, দলকে জেতানো তৃপ্তি দিচ্ছে। দুটো নতুন বলের বিরুদ্ধে শুরুতে খেলা রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। পিচও গোড়ার দিকে খুব একটা সুবিধার ছিল না। কিন্তু জানতাম, একবার বলের পালিশ উঠে গেলে রান করতে সমস্যা হবে না। দীর্ঘদিন পর বিরাটের সঙ্গে বড় জুটি করতে পেরেও ভালো লেগেছে। অনেকদিন ওর সঙ্গে একশো রানের পার্টনারশিপ হয়নি। দলের কাছেও এই জুটিটা গুরুত্বপূর্ণ। শুভমান গিল দ্রুত আউট হয়েছিল। শ্রেয়স আয়ারও ব্যাট করতে পারত না। ফলে আমাদের উপর বাড়তি চাপ ছিল।’
নভেম্বরে ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ। সব ঠিক থাকলে, এই সিরিজে রোহিতের সঙ্গে কোহলিও খেলবেন। চেনা মেজাজে রোহিতকে দেখে খুশি ছোটবেলার কোচ দীনেশ লাড। তিনি জানিয়েছেন, ‘রোহিত যেভাবে ব্যাট করেছে তাতে মুগ্ধ। বেশি ভালো লেগেছে ও দলকে জেতানোয়। ওর মধ্যে এখনও অনেক খিদে মজুত। আমার বিশ্বাস, ২০২৭ বিশ্বকাপে ও খেলবে।’ যাঁরা রোহিতকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছিলেন, তাঁদের একহাত নিয়েছেন দীনেশ, ‘খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে ওঠা-নামা থাকে। অনেকেই দেখছিলাম, রোহিতকে অবসর নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সফরের পর এটা বন্ধ হবে। একজন ক্রিকেটার অবসর নিয়ে ভাবলে এত হাল্কা মনে খেলতে পারত না। ওর লক্ষ্য অনেক বড়। প্রতিটা শটে ঝরে পড়ছিল আত্মবিশ্বাস। অবসর নয়, বিশ্বকাপ নিয়েই রোহিত ভাবছে এবং প্রস্তুতিও শুরু করেছে।’