নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সবে তিরিশ পেরিয়েছে বয়স। বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করতেন। ছুটি পড়লেই বন্ধুদের সঙ্গে বাইক নিয়ে দূরদূরান্তে ঘুরতে যাওয়ার নেশা ছিল রোহনের। বাইক চালিয়ে সদ্য অরুণাচল প্রদেশ ঘুরে এসেছিলেন। সেই বাইক রাইডের নেশায় ‘কাল’ হল তাঁর। হোলির দিন বন্ধুদের সঙ্গে বাইক চালিয়ে বারাসত থেকে সিকিমে বেড়াতে গিয়ে গ্যাংটকে ডাম্পারের ধাক্কায় মৃত্যু হল বারাসতের যুবক রোহন ঘোষের। জখম হয়েছেন রোহনের এক বন্ধুও। পরিবারের একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ পরিবার সহ পড়শিরা। বৃহস্পতিবার রাতে রোহনের দেহ আনা হয় বারাসতের বাড়িতে।
রোহন ঘোষের বাড়ি বারাসতের নবপল্লির লটারি কালীবাড়ি এলাকায়। কয়েকবছর আগে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। দুই বোন ও মাকে নিয়ে নবপল্লিতে একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন রোহন। তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করতেন। আর বাইক চালিয়ে দূরদূরান্তে ঘুরতে যাওয়া ছিল রোহনের একমাত্র নেশা। এই নেশার টানে বন্ধুদের সঙ্গে আগেও ঘুরতে গিয়েছিলেন বহু দূরে। এবার তাঁদের গন্তব্য ছিল সিকিমের গ্যাংটক। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৪ মার্চ, দোলের দিন সকালে পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে বারাসত থেকে বাইকে করে রোহন সিকিমের উদ্দেশে রওনা দেন। সকলেরই নিজস্ব বাইক ছিল। কিন্তু, রোহনের বাইক সিকিম সরকারের অনুমতি ছিল না। তাই, শিলিগুড়ি পর্যন্ত নিজের বাইকে করেই গিয়েছিলেন রোহন। আর শিলিগুড়ির একটি গেস্ট হাউসে নিজের বাইক রেখে বন্ধুর বাইকে করেই গ্যাংটকে পৌঁছেছিলেন রোহনরা। মঙ্গলবার সকালে গ্যাংটক থেকে বন্ধুর বাইকে করে একটি পর্যটনস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। বন্ধুর বাইকের পিছনে বসেছিলেন রোহন। গ্যাংটকের একটি চেকপোস্ট সংলগ্ন এলাকায় দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ি রাস্তায় বাঁক ঘোরার সময় পিছনের দিক থেকে আসা একটি ডাম্পার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রোহনদের বাইকে ধাক্কা মারে। বাইক থেকে দু’জনেই রাস্তায় ছিটকে পড়েন। ডাম্পারের চাকায় পিষ্ট হয় রোহন। তাঁদের উদ্ধার করে স্থানীয়রা সেনা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেই চিকিৎসক রোহনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। রোহনের বন্ধু চিকিৎসাধীন রয়েছেন সেখানেই। দুর্ঘটনার পরেই স্থানীয় পুলিস যোগাযোগ করে রোহনের পরিবারের সঙ্গে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে জ্ঞান হারাচ্ছেন মা শাশ্বতী ঘোষ সহ পরিবারের লোকজন।
ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে রোহনের দেহ পেয়েছে পরিবার। মৃতের মামা সরসিজ দাশগুপ্ত বলেন, শান্তস্বভাবের ছেলে ছিল রোহন। বেড়াতে ভালোবাসত। ভাগ্নের উপার্জনের উপরই নির্ভর ছিল পরিবারের। ওর দুটো ছোট বোন রয়েছে। তাঁরা পড়াশোনা করে। ওদের পরিবারের কি হবে, ভেবে চিন্তা হচ্ছে।