Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

খেজুরি পুনরুদ্ধারে রাত পর্যন্ত এপাড়া ওপাড়া চষছেন রবিন

খেজুরি বিধানসভা বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে দিনরাত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী রবিন মণ্ডল। শনিবার তিনি খেজুরি-২ ব্লকের হলুদবাড়ি পঞ্চায়েতে জোরদার প্রচার চালালেন।

খেজুরি পুনরুদ্ধারে রাত পর্যন্ত এপাড়া ওপাড়া চষছেন রবিন
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌমিত্র দাস, কাঁথি: খেজুরি বিধানসভা বিজেপির হাত থেকে ছিনিয়ে নিতে দিনরাত এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী রবিন মণ্ডল। শনিবার তিনি খেজুরি-২ ব্লকের হলুদবাড়ি পঞ্চায়েতে জোরদার প্রচার চালালেন। ভাঙাবেড়া সেতুর ওপারে নন্দীগ্রাম, এপারে খেজুরি। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনের বহু ঘটনার সাক্ষী খেজুরি। এরপর ১৯ বছর ধরে জল অনেক গড়িয়েছে। খেজুরিতে বোমা-বন্দুকের আওয়াজ আজ অতীত। একদা ‘লালদুর্গ’ খেজুরিতে সিপিএমের দাপট আর নেই। তাঁদের অনেক কর্মী বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। বিধায়ক বিজেপির শান্তনু প্রামাণিক এবার টিকিট পাননি। গেরুয়া শিবিরের প্রার্থী হয়েছেন জেলা পরিষদ সদস্য সুব্রত পাইক। বিজেপিকে হারিয়ে ফের ঘাসফুল ফোটাতে মরিয়া তৃণমূল।

Advertisement

এদিন সকালে বিজেপি পরিচালিত হলুদবাড়ি পঞ্চায়েতের নরশুল্লাচক বাঁসুলি মন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু হয়। এরপর জগন্নাথচক, কেশবচক, নায়েবচক হয়ে বাইকে চেপে দেখালি যান প্রার্থী। দেখালির বিভিন্ন পাড়ায় তিনি ঘোরেন। একাধিক মন্দিরে পুজো দেন। দেখালি-জলপাই এলাকায় গেরুয়া শিবিরের পঞ্চায়েত সদস্য ধনঞ্জয় দাসের বাড়ি গিয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। তাঁকে সমর্থন করার জন্য আবেদন জানান। তারপর চোদ্দচুল্লি গ্রামে চলল বাড়ি বাড়ি প্রচার। প্রতিটি জায়গায় প্রার্থীকে ঘিরে মানুষের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। করজোড়ে প্রার্থীর একটাই আবেদন, পাঁচটা বছর আমাকে সুযোগ দিন। খেজুরিকে বদলে দেব। বিকালে কার্তিকখালি বাজারে কর্মিসভাও করেন রবিন। এদিন তাঁর প্রচারের সঙ্গী ছিলেন খেজুরি-২ ব্লক তৃণমূলের যুগ্ম সভাপতি সমুদ্ভব দাস ও প্রদীপ জানা। অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি আলাপন দাস বলেন, গত পাঁচ বছরে বিজেপির বিধায়ককে এলাকায় দেখা যায়নি। খেজুরির মানুষের জন্য তিনি কিছুই করেননি। মানুষ বুঝতে পারছে, বিজেপিকে ভোট দিয়ে কতটা ভুল করেছিল। তারা এবার তৃণমূলকেই জেতাবে। বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে দলের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। 
যদিও সুব্রতবাবু বলেন, কোথাও সমস্যা নেই। খেজুরিতে ফের পদ্ম ফুটবে। তৃণমূল ফাঁকা আওয়াজ করছে।
সিপিএম প্রার্থী হিমাংশু দাস বলেন, তৃণমূলের অত্যাচার থেকে বাঁচতে সিপিএম নেতা-কর্মীরা একসময় বিজেপির দিকে গিয়েছিল। তাদের মোহভঙ্গ হয়েছে। মানুষ আমাদের দিকে ফিরছে। বঞ্চনার জবাব ও উন্নয়নের প্রশ্নে মানুষ আমাদের ভোট দেবে।
খেজুরি-১ ব্লকের ছ’টি, খেজুরি-২ ব্লকের পাঁচটি ও ভগবানপুর-২ ব্লকের দুটি পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত খেজুরি বিধানসভা এলাকা। গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী শান্তনু প্রামাণিক ১৭ হাজার ৯৬৫ভোটে তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম দাসকে পরাজিত করেন। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে পাঁচটি পঞ্চায়েত দখল করে বিজেপি। তৃণমূলের দখলে আসে আটটি পঞ্চায়েত। পাশাপাশি খেজুরি­-২ পঞ্চায়েত সমিতির স্থায়ী সমিতির দখল নেয় বিজেপি। লোকসভা নির্বাচনেও খেজুরিতে এগিয়েছিল তৃণমূল। বর্তমান তৃণমূল শাসিত সরকারের হাত ধরে খেজুরিতে রাস্তাঘাট, পানীয় জল, আলো থেকে শুরু করে নানাবিধ উন্নয়ন হয়েছে। সরকারি জনমুখী প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছে মানুষ। এলাকাবাসীর আরও কিছু দাবি রয়েছে। রসুলপুর নদীর উপর কাঁথির সঙ্গে সংযোগকারী সেতুর দাবি খেজুরিবাসীর অনেকদিনের। পাশাপাশি খেজুরিতে রেল যোগাযোগ স্থাপন, দমকল কেন্দ্রের দাবি মেটেনি। প্রাচীন খেজুরি বন্দরের ধ্বংসাবশেষ ও পোস্টঅফিস এবং নিজকসবার হিজলি মসনদ-ই-আলাকে নিয়ে পর্যটন সার্কিট গড়ার দাবিও রয়েছে। 
তৃণমূল প্রার্থী রবিন খেজুরি বিধানসভার গড়বাড়ি-১ পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। তিনি ভগবানপুর-১ ব্লক তৃণমূলের সভাপতিও। রবিন বলেন, এবার খেজুরির মাটিতে ঘাসফুল ফুটবে। বিজেপিকে মানুষ প্রত্যাখান করবে। খেজুরি পুনরুদ্ধার করার লক্ষ্যে প্রচার করছি। মানুষের অভূতপূর্ব সাড়া লক্ষ্য করছি। জয়ী হলে রসুলপুর নদীর উপর সেতু তৈরি সহ নানা পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ