নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিভিন্ন জায়গায় জাতীয় সড়কের হাল খারাপ হওয়ার কারণে বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে রাস্তা তৈরির সময়েই প্রযুক্তিগত গলদ রয়ে গিয়েছে। জাতীয় সড়কের এই ধরনের অংশগুলি চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে এবার রোড সেফটি অডিট করানোর সিদ্ধান্ত নিল রোড সেফটি কাউন্সিল। একই সঙ্গে রাজ্যগুলির কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, তাদের অধীনে থাকা স্টেট হাইওয়েগুলির একইভাবে অডিট করানো হোক। যাতে সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা যায়।
বিভিন্ন রাস্তার হাল হকিকত পর্যালোচনা করতে গিয়ে রোড সেফটি কাউন্সিলের নজরে এসেছে, জাতীয় সড়কের অনেক জায়গাতেই প্রযুক্তিগত ত্রুটি রয়েছে। রোডস ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভুলের কারণেই বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে কোনো কোনো জায়গায়। এরকম জায়গাগুলিকে ‘ব্ল্যাক স্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। অনেক রাস্তায় দৃশ্যমানতার অভাব রয়েছে। এমনকি, পর্যাপ্ত সাইনেজ পর্যন্ত নেই সড়কের বিভিন্ন অংশে। রোড সেফটি কাউন্সিলের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের বৈঠকে বারবার এ প্রসঙ্গ উঠেছে। কারণ, জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনার পর কোনো গোলমাল বা আইনশৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার মতো পরিস্থিতি হলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের পুলিশকেই তা সামাল দিতে হয়। সেই সূত্রে রাজ্যগুলির তরফে বারবার জানানো হয়েছে, জাতীয় সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকমতো হচ্ছে না। অনেক রাস্তাতেই পিচ উঠে গিয়ে খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। জাতীয় সড়কের সঙ্গে বিভিন্ন ছোটো রাস্তার সংযোগস্থলে রাস্তার ডিজাইন কী হওয়া উচিত, তা বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশকর্তারা বহুবার তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন ত্রুটি তাঁরাই সামনে এনেছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সড়ক মন্ত্রকের আধিকারিকরা বিশেষ গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ। উলটে রাজ্যের তরফে তুলে ধরা বিভিন্ন বিষয়কে ক্রমাগত খাটো বা গুরুত্বহীন করে দেখানোর চেষ্টা হয়েছে। অবশেষে এতদিনে এই সমস্যা সমাধানের রাস্তা খুঁজে বের করতে উদ্যোগী হয়েছে রোড সেফটি কাউন্সিল। তাই অডিট করে সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে উদ্যোগী হচ্ছে তারা। চলতি বছরেই এই প্রক্রিয়া চালু করতে চাইছে তারা। রোড সেফটি অডিটের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন রাস্তার হাল, কোথায় কোথায় প্রযুক্তিগত ত্রুটি তৈরি হয়েছে বা দৃশ্যমানতার অভাব আছে, সেসব পর্যালোচনা করে রিপোর্ট জমা দেবে কাউন্সিলের কাছে। তার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। একইসঙ্গে, তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী রাস্তা মেরামত সহ অন্য কাজের জন্য আলাদা করে তহবিল রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। কাজে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য এই প্রস্তাব বলে জানা গিয়েছে