সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ সেতুর উপর পিডব্লুডির প্রায় ৫৮০মিটার রাস্তা বেহাল অবস্থায় রয়েছে। তিন মাস না পেরতেই সারানো রাস্তা ফের ভেঙে গিয়েছে। বেশকিছু জায়গায় গর্ত হয়ে গিয়েছে। কোথাও আবার গর্ত এতটাই গভীর যে সেতুর লোহার রডও বের হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টিতে গর্তগুলিতে জল জমছে। ফলে প্রতিদিনই সমস্যায় পড়ছেন পথচারী থেকে যানবাহন চালকরা। রাস্তার এই বেহাল পরিস্থিতির কারণে ছোটখাট দুর্ঘটনা লেগেই থাকছে। গর্তে চাকা পড়ে ভাঙছে গাড়ির যন্ত্রাংশ। অবিলম্বে সেতুর গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি পাকাপোক্তভাবে সারানোর দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পূর্তদপ্তরের নদীয়া হাইওয়ে ডিভিশন-১ এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বুলবুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। গত কয়েক দিনের বৃষ্টির জেরে এই সমস্যা হয়েছে। এখন অস্থায়ীভাবে মেরামত করে দেওয়া হবে। তবে আমরা সজাগ আছি। বর্ষার পর দ্রুত ওই রাস্তার সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতু। সেতুটির রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় মিলিয়ে গড়ে প্রায় ১০ হাজার গাড়ি চলাচল করে। ভাগীরথীর উপরে থাকা এই সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব বর্ধমান সহ অন্যান্য জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। পিডব্লুডি রোডসের অধীনে থাকা সেতুর প্রায় ৫৮০মিটার রাস্তাটির অধিকাংশই ভেঙেচুরে গিয়েছে। তবে তিনমাস আগে সেতুর উপরের বেশকিছু জায়গা জোড়াতালি দিয়ে সারানো হয়েছিল। কিন্তু মেরামত করা অংশগুলির পাশ দিয়ে বেশকিছু অংশ আবারও ভেঙে গিয়েছে।
স্থানীয় ফরেস্টডাঙার বাসিন্দা কালোয়া চৌধুরী বলেন, কয়েকমাস আগে পিডব্লুডির তরফে রাস্তা মেরামত করা হয়। কিছুদিনের মধ্যে তা আবার ভেঙে গিয়েছে। অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে পাকাপোক্তভাবে ব্রিজের অংশটুকু মেরামত করা দরকার। নবদ্বীপ বাবলারি-কৃষ্ণনগর রুটের বাসচালক গোবিন্দ দেবনাথ বলেন, শুধু নদীয়া, বর্ধমান নয়, উত্তরবঙ্গ সহ দক্ষিণবঙ্গ তথা কলকাতার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গৌরাঙ্গ সেতু। ব্রিজের রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। যেকোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
নদীয়া জেলা বাস পরিবহণ কর্মী ইউনিয়নের নবদ্বীপ শাখার সম্পাদক সুজিত সরকার বলেন, নবদ্বীপ-বর্ধমান সহ বিভিন্ন রুটের বাস এই রাস্তা দিয়ে চলে। গৌরাঙ্গ সেতুর উপর এই রাস্তায় একাধিক বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে মেরামতির প্রয়োজন। গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশের ক্ষতি হচ্ছে। বাস পরিষেবাও সঙ্কটে পড়ছে। -নিজস্ব চিত্র