সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ স্কুলমোড়ের রাস্তায় ১০দিন আগে তৈরি কালভার্ট ভেঙে গেল। গত সোমবারের এই ঘটনার জেরে স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। কালভার্টের একাংশ ধসে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা ও কালভার্ট তৈরিতে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সেই অভিযোগে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ওই রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন পূর্তদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা।
কাটোয়া হাইওয়ে ডিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার শঙ্কর চক্রবর্তী বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে তড়িঘড়ি পুরনোটি ভেঙে নতুন করে কালভার্ট তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছি। পুরো বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
পূর্তদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ ফেরিঘাট থেকে দেয়াসিন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার করা হচ্ছে। এরজন্য প্রায় ১৫কোটি ৩২লক্ষ ৩৪হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়। ওই রাস্তায় ছোট-বড় মিলিয়ে ১৮টি কালভার্ট রয়েছে। কোনওটি হিউম পাইপ, আবার কোনওটি ঢালাই দিয়ে করা হচ্ছে। অগ্রদ্বীপ স্টেশন রোডে স্কুলমোড়ের কালভার্টটি ৩২মিটার চওড়া। তার একদিক আচমকা ধসে বড় গর্ত তৈরি হয়ে যায়। তাতেই এলাকার বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হন। তাঁদের প্রশ্ন, মাত্র ১০দিন আগের তৈরি কালভার্ট কীভাবে এত তাড়াতাড়ি ভেঙে যায়? রাস্তা, কালভার্টে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ ওই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা দিয়ে সারাদিনে কয়েকশো গাড়ি ও কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে। যেকোনও মুহূর্তে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এমনকি, কালভার্ট সহ রাস্তার পাশে সদ্যনির্মিত নিকাশি নালাগুলিতেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সুকান্ত দেওয়ান, মিহির মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে বারবার কাজের শিডিউল দেখাতে বলেছি। কিন্তু তিনি আমাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। যে ঢালাই দেওয়া হয়েছে, তাও খসে পড়ছে। অথচ এই রাস্তা দিয়ে সারাদিনে অসংখ্য ভারী গাড়ি চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দা কাজল মুখোপাধ্যায় বলেন, আমরা কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। আগে টেন্ডারে যা শিডিউল রয়েছে তা সম্পূর্ণ করতে হবে। কিছু বলতে গেলেই আমাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হচ্ছে।
পূর্তদপ্তর সূত্রে খবর, রাস্তাটি দু’দিকে চওড়া করা হয়েছে। রাস্তার পাশে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও দোকানঘর আগেই ভেঙে ফেলা হয়েছে। সেগুলি পূর্তদপ্তরের জায়গায় তৈরি করা হয়েছিল। ওই ঠিকাদারকে এর আগেও বেশ কয়েকটি ঢালাই ভেঙে নতুন করে তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিপুল সরকারি টাকা ব্যয়ে তৈরি রাস্তার কালভার্ট এত তাড়াতাড়ি ভেঙে গেল। এই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হোক। বাসিন্দারা বলছেন, ওই ঠিকাদারকে কেন এখনও শোকজ করা হচ্ছে না? কালভার্টটির পুরো অংশই সামান্য আঘাতে ভেঙে যাচ্ছে। সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে না। তার বদলে মাটি মেশানো হচ্ছে বলেই এত তাড়াতাড়ি নির্মাণ ভেঙে যাচ্ছে। এমনই অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।
গাজীপুর অঞ্চলের তৃণমূল সভাপতি জাফর আলি শেখ বলেন, আমরা বিষয়টি সমস্ত সরকারি দপ্তরে জানিয়েছি। কেন এত তাড়াতাড়ি কালভার্ট ভেঙে যাবে, তা তদন্ত করে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।