Bartaman Logo
২৯ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ, স্কুলছাত্রের মৃত্যুতে ফের বিক্ষোভ

বাঁশদ্রোণীতে স্কুলছাত্রের মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার ফের বিক্ষোভ অবরোধে বসলেন অভিভাবকরা।

গভীর রাত পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ, স্কুলছাত্রের মৃত্যুতে ফের বিক্ষোভ
  • ২৯ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাঁশদ্রোণীতে স্কুলছাত্রের মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার ফের বিক্ষোভ অবরোধে বসলেন অভিভাবকরা। এদিন সন্ধ্যায় স্কুলের বাইরে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোস রোডের উপরে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান ছাত্রছাত্রীদের বাবা-মায়েরা। গভীর রাত পর্যন্ত চলে রাস্তা অবরোধ। তার জেরে গড়িয়া থেকে টালিগঞ্জ যাতায়াত ব্যাহত হয়। গণপরিবহণ ও যানবাহন ভিন্ন পথে ঘুরিয়ে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। এদিনের বিক্ষোভে অন্য স্কুলগুলির পড়ুয়াদের অভিভাবকরাও যোগ দেন। 

Advertisement

১৩ মে স্কুলেই অসুস্থ হয়ে পড়ে মহর্ষি বিদ্যামন্দিরের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র আয়ুষকুমার নাথ। সেদিনই স্কুলের সিঁড়ি থেকে পড়ে যায় সে। এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই কোমায় চলে যায় ৯ বছরের বালক। ১১দিন পর রবিবার হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এরপরেই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ জানান আয়ুষের বাবা আশিসকুমার নাথ। তার ভিত্তিতে গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু করে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ। লালবাজার জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, আয়ুষ ব্রেন টিউমারে ভুগছিল। তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত সঙ্কটজনক। চিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে হ্যামারেজ হয়েছে। কিন্তু, তার কারণ সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়া নয়। তাও তদন্তকারীরা স্কুলের প্রিন্সিপাল, শ্রেণি শিক্ষিকা ও স্কুলের হিসাবরক্ষককে আটক করে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত জিজ্ঞাসাবাদ করেন। স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখা হয়। লালবাজারের এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, গ্রেপ্তারির ক্ষেত্রে আইনসঙ্গত প্রমাণের প্রয়োজন হয়। কিন্তু, এক্ষেত্রে এখনও আমাদের হাতে তেমন কোনও প্রমাণ আসেনি। তাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনজনকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। 
তবে এনিয়ে বুধবারও থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। তার রেশ থাকল বৃহস্পতিবারও। তাঁদের বক্তব্য, সিসি ক্যামেরার ফুটেজের কয়েকটি অংশ ডিলিট করে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তার জেরেই তথ্যপ্রমাণ গায়েব হয়ে গিয়েছে। স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজের ফরেন্সিক পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভরত অভিভাবকরা। একইসঙ্গে, অভিযুক্ত তিনজনকে দ্রুত গ্রেপ্তারির দাবি জানাচ্ছেন তাঁরা। পুলিশের দাবি, গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই কেসে মৃতের সহপাঠীদের বক্তব্য অত্যন্ত জরুরি। তাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হবে ঘটনার দিন ক্লাসরুমে আয়ুষের শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, ঘটনায় কারোর কোনো গাফিলতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। শিক্ষিকাদের ভূমিকাও স্ক্যানারে। 

সম্পর্কিত সংবাদ