নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে আদিবাসী ছেলেমেয়েদের শিক্ষার বিস্তারে পথ দেখাচ্ছে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দির। শিক্ষা প্রসারেই কাজ থেমে নেই। কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করে দিচ্ছে সংস্থা। স্কুলের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির ১৩ জন শিক্ষার্থীর গুরগাঁওয়ে নামী বেসরকারি সংস্থায় কাজ মিলছে। আদিবাসী পড়ুয়াদের কর্মসংস্থানে এবার জেলা প্রশাসন সেতু বন্ধনের কাজ করছে।মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরের (একলব্য মডেল রেসিডেন্সিয়াল স্কুল) দায়িত্বভার রামকৃষ্ণ মিশনের হাতে তুলে দিয়েছে। মিশন কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব গ্ৰহণ করার পরেই স্কুলের পরিকাঠামো ঢেলে সাজানো হয়েছে। জেলার নামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে এখন এই স্কুলের নাম একসঙ্গে উচ্চারিত হচ্ছে। আবাসিক এই স্কুলে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৫১৮ জন ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে। পড়ুয়াদের আর্থ সামাজিক অবস্থার দিকে লক্ষ্য রেখে কারিগরি শিক্ষার ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের বিউটিশিয়ান, খাদ্য প্রস্তুতিকরণ ও হস্তশিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ছাত্রদের জন্যেও নানা কারিগরি শিক্ষার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীরা যাতে পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করতে পারে, তারও ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগে পড়ুয়াদের মধ্যে সাড়া পড়ে গিয়েছে। জেলার অনগ্ৰসর শ্রেণি কল্যাণ ও উপজাতি উন্নয়ন বিভাগ আদিবাসী পড়ুয়াদের কর্মসংস্থানে সেতু বন্ধনের কাজ করছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দেশের নামী বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
Advertisement
রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের সহকারী সম্পাদক স্বামী অলোকেশানন্দ মহারাজ বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সার্বিক বিকাশে আমরা সর্বাধিক জোর দিচ্ছি। শিক্ষার্থীদের অনেকেই আদিবাসী পরিবারের প্রথম পড়ুয়া সদস্য। স্কুলের পরিবেশের সঙ্গে তারা যাতে মানিয়ে নিতে পারে, তারজন্য সতর্ক নজর রাখা হয়। আশ্রমের তরফে ঘৃতখাম, চাঁদাবিলা, ওদচুয়া, আনন্দপল্লির মতো জায়গায় কোচিং সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। শিক্ষার প্রাথমিক ভিত তৈরি করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখান থেকে শিক্ষাপ্রাপ্ত ছেলেমেয়েরা এই স্কুলে ভর্তি হচ্ছে। পঠনপাঠনের সঙ্গে পড়ুয়াদের জন্য এবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্কুলের ১৩ জন পড়ুয়া বড় বেসরকারি সংস্থায় কাজ পেয়েছে। কাজ করার সঙ্গে তাঁরা পঠনপাঠন চালিয়ে যেতে পারবে। স্কুলের ছাত্রীরা এই ধরনের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আবেদন জানাচ্ছে। জেলা প্রশাসন এই উদ্যোগে আমাদের সবরকম সহযোগিতা করছে।
ঝাড়গ্রাম অনগ্ৰসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক পার্থ দে বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো যোগ্য কর্মী পাওয়ার লক্ষ্যে আমাদের কাছে আবেদন করছেন। রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরের সঙ্গে সংস্থাটির যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। দপ্তরের তরফে এই ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি করে নেওয়া হবে।
ঝাড়গ্রাম অনগ্ৰসর শ্রেণি কল্যাণ দপ্তরের আধিকারিক পার্থ দে বলেন, বেসরকারি সংস্থাগুলো যোগ্য কর্মী পাওয়ার লক্ষ্যে আমাদের কাছে আবেদন করছেন। রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরের সঙ্গে সংস্থাটির যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। দপ্তরের তরফে এই ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি করে নেওয়া হবে।



