নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় দু’মাস হতে চলল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) পদ ফাঁকা। অর্থাৎ এই মুহূর্তে বাংলায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ওই গুরুত্বপূর্ণ পদটি শূন্য। প্রথা অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস (আইএএস) ক্যাডারের আমলারাই সিইও’র দায়িত্ব পালন করেন। সদ্যপ্রাক্তন সিইও আরিজ আফতাব পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের ১৯৯১ ব্যাচের অফিসার ছিলেন। গত বছর ৩১ ডিসেম্বর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। তারপর ওই পদে এখনও কাউকে নিয়োগ করেনি কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, সিইও পদে থাকা আমলাদের অবসরের বহু আগেই সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকার ওই পদের জন্য তিনজন আইএএস অফিসারের নাম প্রস্তাব আকারে নির্বাচন সদনে পাঠায়। জাতীয় নির্বাচন কমিশন সেই তালিকা থেকে পরবর্তী সিইও হিসেবে একজনকে বেছে নেয়। যদি সেই তালিকা অপছন্দ হয় তাহলে কমিশনের তা বাতিল করার অধিকার রয়েছে। সেক্ষেত্রে রাজ্যকে ফের নতুন করে প্যানেল পাঠাতে হয়। আরিজ আফতাব রাজ্যের সিইও হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি ডালহৌসির সিইও দপ্তরে বদলি হয়ে আসেন। তারপর দু’টি লোকসভা (২০১৯, ২০২৪) এবং একটি বিধানসভা (২০২১) ভোট করিয়েছেন। তাঁর নিয়োগ নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই সময় পশ্চিমবঙ্গ সরকার পরপর দু’বার সিইও পদের জন্য নামের প্যানেল পাঠিয়েছিল। জাতীয় নির্বাচন কমিশন সেই তালিকা পত্রপাঠ খারিজ করে দেয়। তৃতীয় প্যানেল থেকে আরিজ আফতাবকে বেছে নিয়েছিল কমিশন। তবে এবার আশ্চর্যজনকভাবে নামের তালিকা পাঠায়নি নবান্ন। এক্ষেত্রে কমিশন চাইলে রাজ্য সরকারকে সময় দিতে পারে। কিংবা রাজ্যের মুখ্য সচিবকে আমলাদের প্যানেল পাঠানোর নির্দেশ দিতে পারে। যা নিয়ে ফের সংঘাতের আবহ তৈরির আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল। উল্লেখ্য, বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রয়াত হয়েছেন। ওই কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে রাজ্যে মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক না থাকায় উপনির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুই করা যাচ্ছে না।



