নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরসভা ভোটে পাক খাচ্ছে জোট! কে, কার সঙ্গে হাত ধরবে, তা নিয়ে বিস্তর গুঞ্জন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেস এবং সিপিএমের হাত ধরাধরি হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে। বিশেষ করে দিল্লির রামলীলা ময়দানে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির এক মঞ্চে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের অবস্থান চর্চার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গে কি আদৌ মমতা তৃণমূল, কংগ্রেস, সিপিএমের জোট সম্ভব, এই প্রশ্নটাই ভাবাচ্ছে রাজনীতির কারবারিদের।
অনেকেই টেনে এনেছেন পুরানো রাজনৈতিক ইতিহাস। ২০১১ সালে কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোট হয়েছিল এবং পরাজয় ঘটেছিল সিপিএমের। পরবর্তীতে, ২০১৬ সালে সিপিএম ও কংগ্রেসের জোট হয়। সেবার সিপিএমের ভোট কংগ্রেসের বাক্সে গেলেও কংগ্রেসের ভোট আসেনি সিপিএমের বাক্সে। ফলে এবার কী হবে, তা নিয়েই আলোচনা সর্বত্র।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এবার বিজেপির বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ে নেমেছে কংগ্রেস, মমতা তৃণমূল ও সিপিএম। ফলে পুরসভার যে ওয়ার্ডে যে দলের প্রার্থী প্রধান লড়াইয়ের মুখ, তাঁকেই সমর্থন দেবে বাকিরা। আসন সমঝোতার মাধ্যমে একটি অলিখিত জোট হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তবে পুরভোটের প্রস্তুতি শুরু হলেও এখনো কংগ্রেস, সিপিএম বা মমতা তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে জোট-রাজনীতির পুরানো ইতিহাসের তথ্য সামনে এনে মমতা শিবিরকে আক্রমণ করেছে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির। গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের খোঁচা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোট বদল, সঙ্গী বদল। ১৯৯৮ ও ৯৯ সালের ভোটে ওঁর সঙ্গী বিজেপি। ২০০১ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস, ২০০৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপি, ২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপি, ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে কংগ্রেস, ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস। শুধু যাওয়া-আসা, শুধু স্রোতে ভাসা। মমতা তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পালটা বলেন, বিজেপির বি-টিম ঋতব্রত শিবির। ওদের মুখে জোট-রাজনীতির কথা মানায় না।



