নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: দল ভেঙেছে, আলাদা কমিটি গঠিত হয়েছে, বন্ধ হয়ে গিয়েছে দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। দলের প্রতীক নিয়ে চলছে দড়ি টানাটানি। ঠিক এই অবস্থায় কালীঘাট তৃণমূলের উপর চাপ বাড়িয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সদস্যরা। আজ, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করবেন ঋতব্রত শিবিরের দশজন সদস্য। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, প্রতীকের দখলসহ নিজেদেরকে ‘আসল’ তৃণমূল প্রমাণ করতেই তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকের এই চাল।
বুধবার কলকাতা থেকে দিল্লি গিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহা প্রমুখ। বৃহস্পতিবার দুপুরে কমিশনে তাঁদের বৈঠক। কিন্তু কী কারণে? খোলসা করেনি ঋতব্রত শিবির। মনে করা হচ্ছে, ঋতব্রত অ্যান্ড কোং-এর তৈরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় কমিটি সম্পর্কে কমিশনকে বিস্তারিত অবগত করবেন তাঁরা। তাঁদের সঙ্গে বিধায়কসহ সর্বাধিক কতজন দলীয় জনপ্রতিনিধি, নেতা, কর্মী প্রভৃতি রয়েছেন, জানানো হবে তাও। ঋতব্রতরা জোড়াফুল প্রতীকের জন্যও জোরালো দাবি পেশ করবেন। সোজা কথায়, তৃণমূলের পুরো রাশই চান বিদ্রোহীরা।
ঋতব্রতর বক্তব্য, তৃণমূলের ‘আসল’ ‘নকল’ চর্চায় তাঁরা নেই। কারণ তাঁরাই তৃণমূল কংগ্রেস। নিয়ম মেনেই পদক্ষেপ করছেন তাঁরা। ঋতব্রত বলেন, আরজি মেনে নির্বাচন কমিশন আমাদের সময় দিয়েছে। তাদের ধন্যবাদ। আমাদের দলের কথা কমিশনে তুলে ধরব। অন্যদিকে মমতাপন্থী শিবিরও নিজেদেরকে আসল তৃণমূল বলে দাবি করেছে। ২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে এদিন তাদের প্রস্তুতি বৈঠক হয়। তারপর কুণাল ঘোষ বলেন, আমাদের দলের মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে সামনে রেখে সমস্ত কর্মী ঐক্যবদ্ধ।
অন্যদিকে, তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদ আর তাঁদের বেতন থেকে সংসদীয় দলকে চাঁদা দেবেন না বলেই ঠিক করেছেন। এতদিন প্রতি মাসে তৃণমূল সাংসদদের বেতন থেকে ১০ হাজার টাকা করে সরাসরি তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে চলে যেত। সাংসদের বেতনের অ্যাকাউন্ট রয়েছে সংসদ ভবনের স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ায়। পরিবর্ত পরিস্থিতিতে এই চাঁদা দেওয়া বন্ধ করতে নতুন করে এসবিআইকে চিঠি দিয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদরা। উল্লেখ্য, একজন সাংসদ প্রতি মাসে বেতন হিসেবে পান ১ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। এছাড়া সংসদীয় ক্ষেত্রের জন্য ৭০ হাজার এবং অফিস খরচ হিসেবে মেলে ২০ হাজার টাকা। সংসদের অধিবেশন এবং সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দিলে দিন প্রতি অতিরিক্ত আড়াই হাজার টাকা।