Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বাড়ছে ব্যয়, দেশে পরিকাঠামো উন্নয়নে কিছুটা ধাক্কার আশঙ্কা

বাড়ছে ব্যয়, দেশে পরিকাঠামো  উন্নয়নে কিছুটা ধাক্কার আশঙ্কা
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এবার দেশে পরিকাঠামো উন্নয়ন কি ধাক্কা খেতে চলেছে? তেমনই ইঙ্গিত দিল অন্যতম ক্রেডিট রেটিং সংস্থা ক্রিসিল। দেশের ১৮টি রাজ্য, যারা সার্বিক মূলধনী খরচের ৯৪ শতাংশ নিজেদের দখলে রাখে, তাদের আর্থিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করেই এমন ইঙ্গিত দিয়েছে ক্রিসিল। তারা জানিয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ শেষে এই রাজ্যগুলিতে পরিকাঠামো খাতে খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে ৪ থেকে ৬ শতাংশ। মোট খরচ দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে সাত লক্ষ কোটি টাকা। গত অর্থবর্ষে এই বৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশ। বিগত দশ বছর ধরে বৃদ্ধির হার ছিল গড়ে ১১ শতাংশ। অর্থাৎ পুরোনো বছরগুলির দিকে নজর দিলে এবার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন যে কিছুটা থমকাবে, তারই ইঙ্গিত দিয়েছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটি। যে ১৮টি রাজ্যের হিসেবের উপর ভিত্তি করে এই রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গও রয়েছে। 

Advertisement

কেন উন্নয়ন ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে? ক্রিসিল জানাচ্ছে, এবছর রাজ্যগুলির রাজস্ব আদায় ও অন্যান্য রোজগার যতটা বৃদ্ধির আশা ছিল, তা হবে না। এর একাধিক কারণ আছে। যেমন, নতুন করে জিএসটির যে হার নির্ধারিত হয়েছে, তাতে রাজস্ব আদায় মার খাবে সব রাজ্যেই। পাশাপাশি কেন্দ্র থেকে রাজস্বের যে ভাগ রাজ্যগুলির পাওনা, তাও এবার কমবে। এরই সঙ্গে এবার সার্বিক জিডিপি বৃদ্ধির হার আগের তুলনায় কমতির দিকে থাকবে। এর ফলে রাজ্যগুলির রাজস্ব ঘাটতি হওয়া স্বাভাবিক বলে দাবি করেছে ক্রেডিট রেটিং সংস্থাটি। তাদের বক্তব্য, বাজেটের ২৩ থেকে ২৭ শতাংশ টাকা সাধারণত রাস্তাঘাট বা ব্রিজ তৈরির মতো পরিকাঠামোয় খরচ করে রাজ্য সরকারগুলি। সেচের মতো পরিষেবার জন্য খরচ করা হয় ১৮ থেকে ২২ শতাংশ টাকা। সেই খাতগুলিতে এবার যে লগ্নির ভাগ একটু হলেও কমবে, তারই ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।  
এরই সঙ্গে রাজ্যগুলি তাদের সাধারণ খরচের ভাগ বাড়তে চলেছে, জানিয়েছে ক্রিসিল। এবছর তা বৃদ্ধি পেতে পারে প্রায় ৯ শতাংশ। দেখা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার তার জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা রক্ষা করতেই গড়ে ৪৪ শতাংশ টাকা খরচ হয়ে যাবে। সামাজিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির টাকা জোগাড় করতে চাপ বাড়বে রাজ্যগুলির ভাঁড়ারে, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। আপাতত আয়কর ও জিএসটি আদায় দেশকে কতটা রাজস্বমুখী করতে পারে তার দিকেই তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ