নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: বিশ্বকর্মা পুজোর ভোররাতে বরানগরে দুষ্কৃতী তাণ্ডব। সোনার গয়না তৈরির দোকানে ঢুকে দোকান মালিকের দুই দাদা ও কর্মীদের বেধড়ক মারধর করে একদল স্থানীয় যুবক। গুরুতর জখম সোনা দোকানের এক কর্মী প্রায় আড়াই ঘণ্টা রিজার্ভারে লুকিয়ে থেকে প্রাণ বাঁচান। সকালে তাঁকে উদ্ধার করে বরানগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ইতিমধ্যে ওই হামলার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। বরানগর থানার পুলিশ সানি অধিকারী নামের এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
বরানগর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মান্নাপাড়ার বাসিন্দা পিনাকী চক্রবর্তী। তাঁর বাড়ির নীচতলার ঘর ভাড়া নিয়ে সোনার গয়না তৈরির কাজ করেন অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কারখানায় বিভিন্ন জেলার চার কর্মীও রয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে তিনটে নাগাদ একদল যুবক পিনাকীবাবুর বাড়িতে হামলা চালায়। পরপর তিনটি দরজা ভেঙে অভিজিৎবাবুর দোকানে পৌঁছয়। এরপর তাঁর দুই দাদা সহ কারখানার কর্মীদের বেধড়ক মারধর করে ও দোকান ভাঙচুর করে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, অভিযুক্ত যুবকরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলাকায় বসে মদ্যপান করছিল। সেই সময় এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবকের সঙ্গে ঝামেলা ও মারপিট হয়। সেই যুবক ওই দোকানের কর্মী সন্দেহ করে তারা হামলা চালিয়েছিল। বাড়ি মালিক
পিনাকী চক্রবর্তী বলেন, রাত দুটো পর্যন্ত আমরাও ওই দোকানের কর্মীদের সঙ্গে বিশ্বকর্মা পুজোর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এরপর সকলে ঘুমোতে যাই। ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ পাড়ার কিছু মদ্যপ যুবক এসে নারকীয় তাণ্ডব চালায়। ওই দোকানের দুই কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন। একজনের চোখ নষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রিজার্ভারের জলে প্রায় তিন ঘণ্টা লুকিয়ে ছিল সে। পরে তাকে সেখান থেকে আমরা উদ্ধার করি। তারা মদ্যপ অবস্থায় মারধর করার সময় বলছিল, কারা আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করেছিলি বল। স্রেফ সন্দেহের কারণে এতবড় ঘটনা ঘটাবে স্বপ্নেও ভাবিনি।
তাণ্ডব চালানো যুবকেরা এই সোনার গয়না তৈরির দোকানে হামলা চালানোর আগে পাশের একটি দোকানেও ভুল করে হামলা চালিয়েছিল। সেই দোকানের মালিক সোমনাথ রায়। তিনি বলেন, হামলাকারীরা আমার কারখানার জানালা ভেঙেছিল। আমার এক পরিচিত দোকানে ছিলেন। তাঁকে গালিগালাজ করে ভিতরে ঢোকে। যখন শোনে কারখানাটি আমার, তখন চলে যায়। আমরা সকলেই আতঙ্কিত। নিজস্ব চিত্র