নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: হুগলির চার ব্লকে ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের পাশে কৃষিদপ্তর। প্লাবিত এলাকা থেকে জল নামতেই সরাসরি চাষিদের ধানের চারা দেবে দপ্তর। খানাকুল-১ ও ২, জাঙ্গিপাড়া ও চণ্ডীতলা-১ ব্লকে ধানের চারা দেওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। হুগলি জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মদনমোহন কোলে বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকের কথা ভাবেন। বারবার তা প্রমাণ হয়েছে। প্লাবিত এলাকায় এবার প্রথমে ধানের বীজ দেওয়া হয়। কিন্তু, তাতেও অনেক বীজ নষ্ট হয়ে যায়। তাই এবার চাষিদের সরাসরি ধানের চারা দিয়ে পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। চাষিরা তা জমিতে রোপণ করে ফসল ফলাতে পারবেন। কৃষিদপ্তর নিজস্ব খামারের ও অন্য এলাকার চাষিদের কাছ থেকে কিনে ক্ষতিগ্রস্তদের চারা দিচ্ছে।
কৃষিদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, এর আগে খানাকুল-১ ও ২ ব্লকের চাষিদের প্রায় ১০ মেট্রিক টন ধানের বীজ বিলি করা হয়। চাষিরা তা দিয়ে বীজতলা তৈরি করেছিলেন। কিন্তু, জলে ডুবে যাওয়ায় অনেক জায়গাতেই বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে যেসব এলাকায় জমা জল নেমেছে, সেখানকার চাষিরা যাতে ধানের চারা রোপণ করতে পারেন, সেই জন্য এবার সরাসরি ধানের চারা দেওয়া হবে। জেলায় প্রায় ১০২ হেক্টর জমির জন্য তা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাস থেকেই আরামবাগ মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায় জলমগ্ন হয়। অতি বৃষ্টি ও ডিভিসির ছাড়া জলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে জনজীবন। তারসঙ্গে খানাকুলের দু’টি ব্লকের নিচু এলাকার বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। কৃষিদপ্তর ক্ষয়ক্ষতির হিসেব করে কয়েক হাজার চাষিকে বিনামূল্যে ধানের বীজ বিলি করে। তারপর ফের এলাকা প্লাবিত হয়। তাতেও অনেকের বীজতলা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে মাথায় হাত পড়ে চাষিদের। ধান বীজ কেনা সহ অন্যান্য খরচ নিয়ে চাষিরা বিপাকে পড়েন। তাই এবার কৃষিদপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ধানের চারা বিলির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জাঙ্গিপাড়ায় প্রায় ৪৯ হেক্টর জমির জন্য ধানের চারা দেওয়া হবে। চণ্ডীতলা ১ ব্লককে ৩০ হেক্টর, খানাকুল-১ ব্লক ১৯ হেক্টর এবং খানাকুল-২ ব্লককে দেওয়া হবে প্রায় দুই হেক্টর জমির ধানের চারা। কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বলেন, চাষিদের ব্যবহৃত জনপ্রিয় ধানের প্রজাতিগুলিই দেওয়া হচ্ছে। কৃষিদপ্তরের খরচেই বিভিন্ন উঁচু এলাকা থেকে চাষিদের অতিরিক্ত চারা কেনা হয়েছে। রাজ্যে এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিজস্ব চিত্র